৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও জলাবদ্ধতার প্রতিবাদ: সিলেটে বিশাল মানববন্ধন, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

admin
প্রকাশিত ০৪ এপ্রিল, শনিবার, ২০২৬ ২১:৪৮:১০
হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও জলাবদ্ধতার প্রতিবাদ: সিলেটে বিশাল মানববন্ধন, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ৪ এপ্রিল, ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম এবং অকাল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা’র ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা।

২ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার অর্ধশত হাওরে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ধানগাছে পচন ধরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, দিরাইয়ের কালিকাটা, শান্তিগঞ্জের দেখার হাওরসহ অন্তত ২০-২৫টি বড় হাওরের নিচু জমি এখন পানির নিচে।

বাঁধ নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ

সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নিয়ম অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয়নি। কাসমির রেজা বলেন, “আমরা ৯ মার্চ প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু এখনো শতভাগ কাজ শেষ হয়নি। বাঁধের কাজে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, “কৃষকেরা ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা দিশেহারা। শুধু ধান নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও ঘনিয়ে আসছে।”

আইনজীবী এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “প্রতিবছর তথাকথিত অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয় যা এখন কৃষকের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। হাওর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার বিকল্প নেই।”

বক্তাদের দাবি ও হুঁশিয়ারি

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযূষ পুরকায়স্থ টিটুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী, ব্লাস্টের সাবেক সমন্বয়ক ইরফানুজ্জামানসহ বিভিন্ন উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা।

বক্তারা প্রধান তিনটি দাবি তুলে ধরেন: ১. অবিলম্বে হাওরের পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও দুর্নীতির বিচার। ৩. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত হাওরের ফসল রক্ষায় সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তবে সিলেট ও সুনামগঞ্জজুড়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


পরামর্শ: এই সংবাদটি প্রচারের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের নিমজ্জিত ধানক্ষেত এবং শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধনের ছবি ব্যবহার করলে সংবাদের প্রভাব অনেক বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করে শেষে যুক্ত করা যেতে পারে।