
আমরা অনেকেই মনে করি কম ঘুমিয়েও কাজ চালানো সম্ভব কিংবা ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে সপ্তাহের ঘাটতি পূরণ করা যায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এসব ভুল ধারণা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সুস্থ থাকতে হলে ঘুমের এই ‘মিথ’গুলো ভাঙা জরুরি।
১. কম ঘুমিয়েও কি কর্মক্ষম থাকা যায়?
অনেকের ধারণা ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়েও দিব্যি থাকা যায়। কিন্তু নিয়মিত ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে ওজন বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস এমনকি আলঝেইমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২. বেশি ঘুমানো কি সবসময়ই ভালো?
৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো বা ‘হাইপারসোমনিয়া’ অনিদ্রার মতোই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত ঘুমের ফলে স্থূলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি না কাটলে সেটি কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
৩. নাক ডাকা কি স্বাভাবিক বিষয়?
নাক ডাকা কেবল বিরক্তির কারণ নয়, এটি ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’র লক্ষণ হতে পারে। নাক ডাকার সঙ্গে দম বন্ধ হওয়া বা দিনে প্রচণ্ড ঘুম পেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. ঘুম না এলেও কি বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে?
বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করলে মস্তিষ্ক বিছানাকে দুশ্চিন্তার জায়গা হিসেবে চিনে নেয়। ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠে বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো হালকা কাজ করা ভালো।
৫. বয়স বাড়লে কি ঘুমের প্রয়োজন কমে?
এটি একটি ভুল ধারণা। বয়স বাড়লে ঘুমের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় ঘুমের পরিমাণ (৭ থেকে ৯ ঘণ্টা) কমে না।
৬. ছুটির দিনে কি সপ্তাহের ঘাটতি পূরণ হয়?
সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি শুধু ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে না। ঘুমের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতাই আসল।
৭. দীর্ঘ সময় ‘ন্যাপ’ নেওয়া কি ঠিক?
দুপুরে ২০-৩০ মিনিটের ন্যাপ শরীরের শক্তি বাড়ায়। কিন্তু এর বেশি ঘুমালে রাতে ঘুমের সমস্যা হয় এবং ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ধরা বা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ গবেষণা: স্বপ্ন দেখলেই কি ঘুম গভীর হয়?
ইতালির আইএমটি স্কুল ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ লুকার একদল গবেষক এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। অধ্যাপক গিউলিও বার্নার্দির নেতৃত্বে ৪৪ জন ব্যক্তির ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে:
-
রোমাঞ্চকর স্বপ্ন: আপনি যত বেশি প্রাণবন্ত এবং রোমাঞ্চকর স্বপ্ন দেখবেন, আপনার ঘুমের মান তত উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
-
গভীর ঘুমের অনুভূতি: যারা প্রগাঢ় ও মগ্ন হওয়ার মতো স্বপ্ন দেখেন, তাঁরা সকালে বেশি সতেজ বোধ করেন।
-
বিচ্ছিন্নতা: অদ্ভুত বা রোমাঞ্চকর স্বপ্ন আমাদের বাইরের জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুমের তৃপ্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
সারকথা: গভীর ঘুম মানে কেবল মস্তিষ্কের বিশ্রাম নয়; স্বপ্নের মাধ্যমে আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই, তাও ঘুমের গুণমান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।