
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৬ এপ্রিল, ২০২৬
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরকারের আন্তরিকতার চরম অভাব রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন ১২৫ বার পেছানো: একটি ‘লজ্জাজনক’ রেকর্ড
সমাবেশে বক্তারা জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এ পর্যন্ত ১২৫ বার পেছানো হয়েছে। একে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তে এতবার সময় বৃদ্ধি পাওয়ার উদাহরণ আধুনিক বিচার ব্যবস্থায় বিরল। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগ ও তদন্ত সংস্থার এই দীর্ঘসূত্রতা আসলে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই উৎসাহিত করছে।
সরকার পরিবর্তনের পরও কাটেনি অচলাবস্থা
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইতোমধ্যে দেশে তিনটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কোনো সরকারই এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার নিশ্চিত করতে প্রকৃত আগ্রহ দেখায়নি। সাংবাদিক নেতাদের মতে:
-
সরকার চাইলে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।
-
এখন পর্যন্ত চারটি ভিন্ন সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কেউ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
-
বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কিন্তু অগ্রগতির কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ নেই।
স্মারকলিপি ও আন্দোলনের ডাক
বক্তারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের প্রতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানান। দাবি আদায় না হলে আগামীতে স্মারকলিপি প্রদানসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ডিআরইউ-এর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ, সিনিয়র সদস্য মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।