৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বানিয়াচংয়ে অতিবৃষ্টিতে ৫০০ একর বোরো ধান পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক

admin
প্রকাশিত ০৬ এপ্রিল, সোমবার, ২০২৬ ১৯:১৭:৪৫
বানিয়াচংয়ে অতিবৃষ্টিতে ৫০০ একর বোরো ধান পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি | ৬ এপ্রিল, ২০২৬

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০০ একর জমির বোরো ধান। উপজেলার ইকরাম গ্রামের হুগলি হাওরের কৃষকরা এই আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আধাপাকা ধান চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে ঋণের বোঝা ও সারাবছরের খাদ্য সংস্থান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক।

হাওরে হাহাকার ও স্থায়ী বাঁধের দাবি

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হুগলি হাওরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে কোনো স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত ঢুকে ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষক আহ্লাদ মিয়া জানান, ঋণ নিয়ে আট বিঘা জমি বর্গা চাষ করেছিলেন তিনি। এলাকাবাসীকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। এখন ঋণ পরিশোধ আর পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায়।

একই অবস্থা প্রদীপ চক্রবর্তী ও কুটি মিয়ার। প্রদীপ বলেন, “ধারের টাকা নিয়ে ছয় বিঘা চাষ করেছিলাম, সব এখন পানির নিচে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব।”

ঝুঁকিতে আরও হাজার হাজার একর জমি

স্থানীয়দের মতে, হুগলি হাওর ছাড়াও বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাদেশ্বরা, বালি ও ব্যাঙ্গা হাওর। যে কোনো সময় বড় ধরনের বৃষ্টি হলে এই তিন হাওরের হাজার হাজার একর ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে। দ্রুত পানি না কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা ইকরাম হোসেন জানান:

“হাওরটি নিচু এলাকায় হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।”

বানিয়াচংয়ের কৃষকরা এখন তাকিয়ে আছেন প্রকৃতির দয়া এবং সরকারের দ্রুত সহযোগিতার দিকে। স্থায়ী ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতিবছরই এমন হাহাকার সঙ্গী হবে বলে মনে করছেন তারা।