১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গোলাপগঞ্জে ভূমিদস্যু জাকিরের রাজত্ব: সাংবাদিকের কলম থামাতে মিথ্যা মামলার জাল

admin
প্রকাশিত ১২ এপ্রিল, রবিবার, ২০২৬ ১৮:৫০:৪৪
গোলাপগঞ্জে ভূমিদস্যু জাকিরের রাজত্ব: সাংবাদিকের কলম থামাতে মিথ্যা মামলার জাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১২ এপ্রিল, ২০২৬

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়নে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম জাকির হোসেন। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সরকারি জমি ও টিলা কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই ব্যক্তি এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে ভোল পাল্টে বনে গেছেন বিএনপি নেতা। তার অনিয়ম ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন ‘সাপ্তাহিক হলি সিলেট’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও এটিএন বাংলা ইউকে’র প্রতিনিধি এস.এম জহুরুল ইসলাম

ক্ষমতার পালাবদল, থামেনি জাকিরের দাপট

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাঘা ইউনিয়নের তুরুগাঁওয়ের আব্দুস সোবহানের ছেলে জাকির হোসেন গত দুই দশকে এলাকায় এক অঘোষিত ‘মাটি সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও জাকিরের দাপট কমেনি; বরং বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

জাকির চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর যত অভিযোগ:

  • সরকারি মাঠ দখল: বাঘা বটতলা (ডাবিল) এলাকার সরকারি খেলার মাঠের মাটি কেটে বিক্রি করে মাঠটি ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

  • দলিল জালিয়াতি: কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেগঞ্জ মৌজায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১০ একর সরকারি জমি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন তিনি।

  • পরিবেশ ধ্বংস: রাতের আঁধারে কৃষি জমি ও টিলা কেটে মাটি বিক্রির সময় একাধিকবার প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারছে না।

  • অনৈতিক কর্মকাণ্ড: স্থানীয়দের অভিযোগ, জাকির ও তার সহযোগী সমুছল ইসলাম এলাকায় জুয়া ও মাদকের আসর বসান। এমনকি এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মাধ্যমে গর্ভবতী করার ঘটনা ধামাচাপা দিতেও জাকির মূল ভূমিকা পালন করেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

সাংবাদিকের ওপর প্রতিহিংসার খড়গ

জাকির চক্রের এসব অপরাধ নিয়ে সংবাদ প্রচার করায় সাংবাদিক এস.এম জহুরুল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এই চক্র। বেআইনি সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।

এর প্রতিবাদে গত ৮ এপ্রিল সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন (ডকেট নং- ২০৪২/২০২৬ ইং)। এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম বলেন:

“সত্য তুলে ধরায় আমাকে এবং আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ

সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিলেট সিটি প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠন। নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ করতে ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ীদের এই অপতৎপরতা বরদাস্ত করা হবে না। তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং জাকির-সমুছল চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংবাদিকের দাখিলকৃত অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।