
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকা (ময়মনসিংহ) | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বাবা-ছেলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিজ ছেলের গুলিতে বাবা খোকা মিয়া (৫০) গুলিবিদ্ধসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার জমিরদিয়া মাস্টারবাড়ি সংলগ্ন নারিশ কোম্পানির গেট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
বিরোধের নেপথ্যে সংসদ নির্বাচন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। বাবা খোকা মিয়া ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কট্টর সমর্থক। অন্যদিকে, ছেলে রানা মিয়া কাজ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে। নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকেই এই দুই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়া নিয়ে পরিবারটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচনের পর থেকে বন্ধ থাকা নারিশের মোড় এলাকার একটি রাজনৈতিক কার্যালয় আজ দুপুরে ছেলে রানা মিয়া তার অনুসারীদের নিয়ে খুলতে যান। খবর পেয়ে বাবা খোকা মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে কার্যালয়টি খুলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ছেলে রানা মিয়া নিজের বাবাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এতে খোকা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এছাড়া রানা মিয়ার সহযোগীরা খোকা মিয়ার সাথে থাকা লোকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও চেয়ার-টেবিল ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ খোকা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মমেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, আহত খোকা মিয়ার শরীরে গুলি ও কোপের গভীর চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশের বক্তব্য
ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নির্বাচনী আদর্শের বিরোধ থেকে বাবা-ছেলের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছে। খোকা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”