আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ও ভ্যাটিকান সিটি তারিখ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতিহাসের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে এক নজিরবিহীন বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে পোপের সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প তাঁকে ‘অযোগ্য’ ও ‘উগ্র বামপন্থীদের অনুসারী’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন। বিপরীতে পোপ জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং শান্তির বাণী প্রচার করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
পোপের জবাব: ‘শান্তি স্থাপনকারীরাই ধন্য’
আজ সোমবার আলজেরিয়া সফরের পথে বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পোপ লিও চতুর্দশ ট্রাম্পের সমালোচনার শান্ত অথচ দৃঢ় জবাব দেন। তিনি বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আহ্বান মূলত বাইবেলের ‘গসপেল’-এর ওপর ভিত্তি করে। পোপের ভাষায়:
“প্রেসিডেন্ট যা করার চেষ্টা করছেন এবং আমার বার্তাকে একই পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না। সুসমাচারের বার্তা খুব স্পষ্ট— ‘শান্তি স্থাপনকারীরা ধন্য’। যুদ্ধের বদলে শান্তির সেতু তৈরি করাই আমার মিশন।”
ট্রাম্পের নজিরবিহীন আক্রমণ ও বিতর্কিত ছবি
গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোপের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পোপকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ ও ‘দুর্বল’ অভিহিত করে বলেন, “আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি অপরাধের বিষয়ে নমনীয় এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পোপ কেবল মার্কিন বংশোদ্ভূত বলেই এই পদ পেয়েছেন এবং তিনি ‘র্যাডিক্যাল লেফট’ বা চরম বামপন্থীদের তুষ্ট করছেন।
বাগ্যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্প একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে নিজেকে যিশু খ্রিষ্টের মতো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের আঙুল থেকে আলো নির্গত হচ্ছে এবং তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করছেন। ট্রাম্পের এই আচরণ এবং যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের কর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ক্ষুব্ধ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব
ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস-এর প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলি ট্রাম্পের মন্তব্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, পোপ কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন, বরং খ্রিষ্টের প্রতিনিধি।
অন্যদিকে, সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ আখ্যা দিয়ে ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তাঁকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। ইতিমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য এই দাবিতে সরব হয়েছেন।
সংঘাতের মূলে ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম’ কাজ করছে—পোপের এমন মন্তব্যের পরেই ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হন। পাকিস্তানে চলা ইরান ও আমেরিকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি পোপকে আক্রমণ করার ঘটনা আধুনিক ইতিহাসে এক বিরল ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।