
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া তারিখ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ‘পীর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে (৬৫) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করতে রাজী নয় তাঁর পরিবার। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হলেও আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিবারের অনাগ্রহ
নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রোববার বিকেলে দাফন সম্পন্ন করার পর পরিবারের সদস্যরা বসে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে তাঁরা বিচার চান না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের অবস্থান
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিবার মামলা না করলে আজই পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করবে। তিনি বলেন:
“পরিবার না করলেও নিহতের ভক্ত-অনুসারী বা অন্য যে কেউ মামলা করতে পারেন। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশই আজ মামলার প্রক্রিয়া শুরু করবে।”
আলামত নষ্টের চেষ্টা ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল অর্থাৎ আস্তানাটির সিসিটিভি ক্যামেরার ড্রাইভ এমনভাবে নষ্ট করা হয়েছে যে সেখান থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে হামলার সময় উপস্থিত লোকজনের ধারণ করা মোবাইল ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। সেসব ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তাঁর আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং তাঁর তিন অনুসারী আহত হন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।