
ক্রীড়া প্রতিবেদক: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সিলেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ম্যাচ খেলার চলাকালীনই জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সুখবরটি পান তিনি।
অধিনায়ক ও নির্বাচকদের ফোন
দলে জায়গা পাওয়ার খবর শুনেই আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন সাকলাইন। তিনি জানান, নাম দেখার পর থেকেই তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের ফোনও পেয়েছেন তিনি। সাকলাইন বলেন, “ক্যাপ্টেন দাদা (লিটন দাস) ফোন করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচকও ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন।”
সাফল্যে পাশে মা ও পরিবার
জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবরটি সাকলাইন প্রথমেই জানিয়েছেন তার মাকে। কয়েক বছর আগে বাবাকে হারানো সাকলাইনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মা ও ভাইয়েরা বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। সাকলাইন বলেন, “যেহেতু বাবা নেই, তাই আম্মুকেই প্রথম ফোন করেছিলাম। আম্মু আমাকে বেশি উচ্ছ্বসিত না হয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং সুযোগটি কাজে লাগিয়ে লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”
কঠোর পরিশ্রমের ফসল
টেপ টেনিস ক্রিকেট দিয়ে শুরু করা সাকলাইনের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটের তৃতীয়, দ্বিতীয় ও প্রথম বিভাগ পেরিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল), বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে নজর কাড়েন নির্বাচকদের।
নির্বাচকদের প্রত্যাশা
সাকলাইনকে দলে নেওয়ার বিষয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, “আমরা একজন কার্যকর বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। সাকলাইন আমাদের সেই অপশনটা হতে পারে। মূলত সেই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে দলে নেওয়া।”
জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন এই তরুণ তুর্কি। তার লক্ষ্য, মাঠের পারফরম্যান্সে দলের জয়ে ‘ইমপ্যাক্টফুল’ অবদান রাখা।