২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কা: শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

admin
প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল, শুক্রবার, ২০২৬ ২১:৫৪:৩৭
সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কা: শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জের হাওর অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কতা

পাউবো ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪-২৬ এপ্রিল হালকা থেকে মাঝারি এবং ২৭-৩০ এপ্রিল অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যেতে পারে। এ কারণে জলাবদ্ধতা ও ফসলের ক্ষতি এড়াতে দ্বিতীয় দফায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মাঠে ধান থাকলেও নেই শ্রমিক ও মেশিন

সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া হাওরে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ থাকলেও কৃষকদের চোখে-মুখে এখন আতঙ্কের ছাপ। বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ চালানো যাচ্ছে না। ফলে নিরুপায় হয়ে কৃষকরা শ্রমিকের ওপর নির্ভর করলেও দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।

  • মজুরি বৃদ্ধি: ধান কাটার জন্য জনপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না।

  • জলাবদ্ধতা: টানা বৃষ্টিতে জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় হাতে ধান কাটা ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু প্রয়োজনীয় শ্রমিকের অভাবে অনেক খেতেই ধান পড়ে আছে।

  • কৃষকদের ক্ষোভ: শান্তিগঞ্জের কৃষক এলখাছ মিয়া জানান, “৭০০-৮০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না, বাধ্য হয়ে নিজেরাই কাটছি।” সুলেমান মিয়া নামের অন্য এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, “কৃষি অফিস শুধু ধান কাটতে বলে, কিন্তু শ্রমিক কই? তারা আমাদের শ্রমিক বা মেশিনের ব্যবস্থা করে দিক।”

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত আবাদকৃত ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ধান কাটায় সহায়তার জন্য বালিমহাল ও ক্রাশার মিলের কাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর শ্রমিক সংকটের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সুনামগঞ্জের হাজারো কৃষকের।