টেন্ডার ঘিরে উত্তেজনা: বিএনপি-ছাত্রদলের বাধার অভিযোগ, জমা পড়ল মাত্র ৪ দরপত্র
টেন্ডার ঘিরে উত্তেজনা: বিএনপি-ছাত্রদলের বাধার অভিযোগ, জমা পড়ল মাত্র ৪ দরপত্র
admin
প্রকাশিত ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১০:২৩:৩৫
টেন্ডার ঘিরে উত্তেজনা: বিএনপি-ছাত্রদলের বাধার অভিযোগ, জমা পড়ল মাত্র ৪ দরপত্র
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) প্রায় কোটি টাকার গাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত দরপত্র জমাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েও অন্তত কয়েকজন ব্যবসায়ী দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও বাধার কারণে টেন্ডার জমা দেওয়ার পরিবেশ কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত চারটি দরপত্র জমা পড়ে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সার্ভিসেস ডিভিশনের নিরাপত্তা শাখা (ট্রান্সপোর্ট) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দরপত্র জমাদানের স্থানে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিরাপত্তা থাকার কথা জানা গেলেও, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—তাঁরা টেন্ডার বাক্সে তাঁদের দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি।
এ ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলমের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে শাহীন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা নিয়ম মেনে দরপত্র জমা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু শাহীন আলমসহ কয়েকজন তাঁদের বাধা দেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১২ জন ব্যবসায়ী দরপত্র জমা দিতে উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি দরপত্র জমা পড়ে।
ব্যবসায়ী মোসায়িদ আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের অনুসারী টেন্ডার এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থলের আশপাশে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলম, ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ইলিয়াস, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সোয়েব আহমদ এবং চিকনাগুল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান ছাব্বিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের উপস্থিতি দরপত্র জমাদানে বাধা দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের পরিবহন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, টেন্ডার জমাদানের পরিবেশ “মারমুখী” ছিল। স্থানীয় এলাকার ১০-১২ জন এসে অন্যান্য ব্যবসায়ীকে টেন্ডার জমা দিতে দেননি বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সময়মতো উপস্থিত হয়েও কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের বাধার কারণে দরপত্র জমা দিতে পারেননি।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের সিবিএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী টেন্ডার জমা দিতে পারেননি—বিষয়টি দুঃখজনক। তাঁর দাবি, স্থানীয় এলাকার কিছু ছেলে ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অন্যদিকে শাহীন আলম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং সেখানে চারটি টেন্ডার জমা পড়েছে। অন্য ব্যবসায়ীরা কেন দরপত্র জমা দেননি, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
চার প্যাকেজে নয়টি গাড়ির দরপত্র
এসজিএফএলের দরপত্র-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগ ও গ্যাস ফিল্ডের জন্য চালক ও জ্বালানিসহ ভাড়ায় মাঝারি মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও পিকআপ সরবরাহের জন্য গত ২১ জুলাই জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ২৪ আগস্ট দরপত্রের সময়সূচি সংশোধন করা হয়।
চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে মোট নয়টি যানবাহন ভাড়ায় নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মাঝারি মিনিবাস, পাঁচটি মাইক্রোবাস এবং একটি ডাবল কেবিন পিকআপ রয়েছে।
দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত অভিজ্ঞতা, বার্ষিক টার্নওভার, তরল সম্পদ বা চলতি মূলধনসহ সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো যোগ্য দরদাতাকে নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। এজন্য টেন্ডার বাক্সে জমা পড়া চারটি দরপত্র, উপস্থিত ব্যবসায়ীদের তালিকা, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের তথ্য এবং দরপত্র জমাদানের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, এসব তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃতপক্ষে কারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, কারা দরপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন এবং কোনো ব্যবসায়ীকে বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়প্রক্রিয়াকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় সব যোগ্য দরদাতার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।