কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতককে নিয়ে আসা অভিভাবকদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ও ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল ৮টায় দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও কোনো কোনো চিকিৎসককে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে আসতে দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকের অপেক্ষায় বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি রয়েছে। এক রোগী জানান, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নবজাতক শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসকের দেখা পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসকদের দেরিতে উপস্থিত হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্ষ ত্যাগ করার কারণে নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। তাঁদের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাঁর দায়িত্বের সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। তিনি নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সিলেট শহরে আবাসন হওয়ায় সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না বলে জানান তিনি। অথচ তাঁর জন্য হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি আবাসিক কোয়ার্টার বরাদ্দ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান নয়ন বলেন, “অভিযোগটি যেহেতু নির্দিষ্ট একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এসেছে, তাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য দায়িত্বও বণ্টন করে পালন করতে হয়। জনবলসংকটের কারণে অনেক সময় একজনের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ে, যা সঠিকভাবে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।