আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক শিশু যৌনপাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ শুক্রবার এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের নেপথ্যে: যেভাবে চলত অপরাধ
মার্কিন সরকারি অ্যাটর্নি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগ রয়েছে:
-
তিনি ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন।
-
শিশুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যৌন আবেদনময়ী ছবি ও ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করতেন।
-
ছবি পাঠাতে অস্বীকার করলে সেগুলো ফাঁস করার হুমকি (ব্ল্যাকমেইল) দিতেন।
-
এই চক্রের মাধ্যমে শত শত শিশুকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন জোবাইদুল
২৮ বছর বয়সী জোবাইদুল আমিন মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করতেন। ২০২২ সালে সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। এফবিআইয়ের কুয়ালালামপুর শাখা এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। গত ৪ মার্চ তাঁকে মালয়েশিয়া থেকে উড়োজাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নিয়ে আসা হয়।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য সাজা
মামলার নথি অনুযায়ী, জোবাইদুলের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণ, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।
“আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে বিচার নিশ্চিত করা যায়, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।” — এস. লেইন টাকার, মার্কিন সরকারি অ্যাটর্নি।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোবাইদুল আমিনের ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আজই তাঁকে আলাস্কার স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্যের আভাস
এফবিআই জানিয়েছে, এই মামলার তদন্তে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। জোবাইদুলের এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তারা কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।