৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন হামলায় ইরানি রণতরি ডুবি: চরম অস্বস্তিতে মোদি সরকার

admin
প্রকাশিত ০৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১২:০২:৪২
শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন হামলায় ইরানি রণতরি ডুবি: চরম অস্বস্তিতে মোদি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ মার্চ, ২০২৬

শ্রীলঙ্কার জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ ডুবে যাওয়ার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ভারতের এতদিনের ‘হিসাব-কিতাব’ করা অবস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ

ঘটনার প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম

গত বুধবার শ্রীলঙ্কার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি ফ্রিগেটটি নিমজ্জিত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠে থাকা কোনো জাহাজে সরাসরি হামলা চালাল। ঘটনায় ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করা গেলেও শতাধিক নাবিক নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নয়াদিল্লির জন্য কেন এটি বড় সংকট?

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক চেতনা কুমার ও অ্যাডাম ফারারের মতে, এই ঘটনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য তিনটি প্রধান কারণে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে:

১. কৌশলগত টানাপোড়েন: ভারত ও শ্রীলঙ্কা যেখানে নিয়মিত যৌথ নৌ-টহল পরিচালনা করে, সেই এলাকায় মার্কিন সাবমেরিনের এই গোপন উপস্থিতি এবং হামলা দিল্লির কৌশলগত মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২. তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক: ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সরাসরি নিন্দা না করায় দেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে মোদি সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসেই এই ‘আইআরআইএস দেনা’ ভারত সফর করেছিল, যা পরিস্থিতির বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়েছে। ৩. ওয়াশিংটন-দিল্লি শীতল সম্পর্ক: ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এমনিতেই মোদি সরকারের সম্পর্ক কিছুটা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই হামলা সেই সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ রক্ষা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে একটি ‘জটিল ভারসাম্য’ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যদিও এই ঘটনা সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয় না, তবে এটি ভারত ও শ্রীলঙ্কা—উভয় দেশের সরকারের ওপরই ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এক নজরে ‘আইআরআইএস দেনা’

  • ধরন: ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট।

  • ভারত সফর: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউতে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিল।

  • বর্তমান অবস্থা: শ্রীলঙ্কা উপকূলে নিমজ্জিত; শতাধিক আরোহী নিখোঁজ।