প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ: ‘অভিযুক্তের স্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি, বাসাতেও যাইনি’—শাহপরাণ থানার ওসি
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ: ‘অভিযুক্তের স্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি, বাসাতেও যাইনি’—শাহপরাণ থানার ওসি
admin
প্রকাশিত ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার, ২০২৬ ২২:২৪:১৩
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ: ‘অভিযুক্তের স্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি, বাসাতেও যাইনি’—শাহপরাণ থানার ওসি
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট সদর উপজেলার বালুচর এলাকায় পুলিশের অভিযান, তল্লাশি ও ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা কিংবা অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। ওসি ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো দেখাই হয়নি। আমি তার বাসাতেও যাইনি।” তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসায় পুলিশের অভিযান পরিচালিত হলেও তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না ওসি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত খালেদ আহমদ সিলেট মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি। এ বিষয়ে বিভিন্ন মামলার নথিতে ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একাধিক মামলার তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওসি ফেরদৌসের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদ আহমদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। এসবের মধ্যে ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় একটি মামলার তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি। তবে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও অভিযোগ হিসেবে বিবেচ্য; অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নয়। খালেদ আহমদের পরিবারের বিষয়ে ওসি দাবি করেন, তাঁর ছেলে রায়হান ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সম্প্রতি এয়ারপোর্ট থানার টিভি গেইট এলাকায় একটি সরকারবিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বালুচরে মিছিলের প্রস্তুতিকালে রায়হানকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও দাবি করেন ওসি। খালেদ আহমদ ও তাঁর ছেলে রায়হান বালুচর এলাকার কথিত সন্ত্রাসী বুলেট মামুনের সহযোগী এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন দাবিও করেন ওসি ফেরদৌস আহমেদ। একই সঙ্গে খালেদ আহমদকে চোরাকারবার ও বালুচর এলাকার কথিত ‘বঙ্গারী’ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে খালেদ আহমদ বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে ওসির বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে ওসি ফেরদৌস আহমেদ বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শাহপরাণ থানা পুলিশ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। বালুচর এলাকাতেও সেদিন একাধিক আসামির বাসা ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ওসি দাবি করেন, পুলিশের নিয়মিত অভিযানের ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পুলিশের কার্যক্রমকে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে একটি চিহ্নিত মহল মনগড়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ওসি ফেরদৌস আহমেদ পুনরায় বলেন, “আমার সঙ্গে তার স্ত্রীর দেখাই হয়নি এবং আমি তার বাসায়ও যাইনি” এদিকে, পুলিশের অভিযান, তল্লাশি ও ভাঙচুর নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগ এবং ওসির দেওয়া বক্তব্য—উভয় পক্ষের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।