নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৫ মার্চ, ২০২৬
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন নিয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের ‘রাজসাক্ষী’ হয়েছেন। একইসঙ্গে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ‘লন্ডন কনস্পিরেসি’র হোতা আখ্যা দিয়ে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
‘রাজসাক্ষী’ রিজওয়ানা হাসান
সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাহ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের খবর আসতে থাকে। আমরা ৫৩টি আসনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিয়েছি। তবে গতকাল আমরা একজন রাজসাক্ষী পেয়েছি, তিনি হলেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।”
রিজওয়ানা হাসানের একটি সাক্ষাৎকার উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “তিনি (রিজওয়ানা) স্বীকার করেছেন যে, নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে না—এমন অজুহাতে একটি পক্ষকে (জামায়াত) বিরোধী দলে রাখা হয়েছে এবং মূল শক্তিতে আসতে দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ
বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, “খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন নিরপেক্ষতার শপথ ভঙ্গ করে পর্দার আড়ালে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিতে কাজ করেছেন। পুরস্কার হিসেবেই তিনি আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, খলিলুর রহমান ইতিপূর্বে বিএনপির কাছেও বিতর্কিত ছিলেন। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদও তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন। অথচ এখন তিনি বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য। ডা. তাহের প্রশ্ন তোলেন, কোন গোপন আঁতাতের কারণে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
সরকারের প্রতি জামায়াতের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রধানত তিনটি দাবি জানানো হয়: ১. জিজ্ঞাসাবাদ: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে নির্বাচনী ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ আর কারা জড়িত ছিল তা বের করতে হবে। ২. অপসারণ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ৩. তদন্ত: ডিসি, এসপি ও প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে কীভাবে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
ডা. তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৫৬ বছরে এই জাতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষাকে যারা ভণ্ডুল করেছে, তারা মীরজাফর। এই ‘দালালি’ ও ‘গাদ্দারি’র বিচার এদেশের মাটিতেই হতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাইফুল আলম খান মিলন এবং কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।