নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বদলের সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কাউকে ছোট বা বড় করে প্রকৃত ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়; বরং অবদান অনুযায়ী সবাইকে স্বীকৃতি দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
ইতিহাসের দলীয়করণ ও পাঠ্যপুস্তক বিতর্ক
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই ইতিহাসের নিজস্ব বয়ান তৈরির চেষ্টা করে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেভাবে পরিবর্তিত হয়, তাতে দলীয়করণের স্পষ্ট ছাপ দৃশ্যমান। বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের মূল নায়কদের যথাযথ সম্মান না জানিয়ে কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিতে গর্ব করা নিরর্থক। ইতিহাসের সত্যকে তার আপন মহিমায় জাতির সামনে উপস্থাপন করা জরুরি।
অপশক্তির পুনরুত্থান ও মির্জা ফখরুলের হুঁশিয়ারি
বিএনপি আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
‘যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, সেই একই অপশক্তি আজ ভিন্ন মোড়কে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি যথেষ্ট নয়। অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগত কারণে একাত্তরের বিরোধী শক্তিদের মদদ দিয়েছে বা আশ্রয় দিয়েছে। তাই যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এখনো ক্ষমা চায়নি, তাদের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও কঠোর দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
জাতীয় ঐক্যের সুযোগ ও নতুন প্রজন্ম
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কালটি ছিল জাতির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। তৎকালীন সংবাদপত্র ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস দীপ্যমান হয়ে ওঠে। ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধের সেই মহান বিজয়কে কোনো অপপ্রচারের মাধ্যমে ম্লান করা সম্ভব নয়।
উপসংহার
নতুন প্রজন্ম যেন ইতিহাসের কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়, সেই নিশ্চয়তা বিধান করা রাষ্ট্র ও জনগণের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইতিহাসের প্রতি অনুগত থেকেই একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। রাজনৈতিক সংকীর্ণতা পরিহার করে প্রকৃত ইতিহাসকে তার নিজের জায়গায় রাখার সুযোগটি কাজে লাগালেই একটি ঐকমত্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।