বিপদ ও দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি: মুমিনের আশ্রয় যখন আল্লাহর দোয়া
বিপদ ও দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি: মুমিনের আশ্রয় যখন আল্লাহর দোয়া
admin
প্রকাশিত ২৯ মার্চ, রবিবার, ২০২৬ ০৮:১৯:৪৭
ইসলাম ডেস্ক | ২৯ মার্চ ২০২৬
মানুষের জীবন এক অনিশ্চিত যাত্রা। কখন কোন বিপদ সামনে আসবে কিংবা কোন সিদ্ধান্ত অমঙ্গল ডেকে আনবে, তা আমাদের অজানাই থেকে যায়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, অনেক সময় মানুষের নিজের ভুল নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অবস্থায় একজন মুমিনের প্রধান কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করা।
বিপদ কি কেবলই পরীক্ষা?
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন:
‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)
বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ হতে পারে, আবার কখনো তা মানুষের কর্মফল হিসেবেও আসে। তবে নেককার ব্যক্তি বিপদেও প্রশান্তি অনুভব করেন, কারণ তিনি জানেন এর বিনিময়ে পরকালে রয়েছে মহাপুরস্কার। অন্যদিকে, সব ধরনের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াই হলো মুমিনের ঢাল।
বিপদ ও দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তির বিশেষ দোয়া
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত একটি দোয়ার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। দোয়াটি হলো:
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই— ১. কঠিন বিপদ-আপদ থেকে, ২. দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া থেকে, ৩. ভাগ্যের অশুভ পরিণতি (মন্দ ফায়সালা) থেকে এবং ৪. শত্রুর আনন্দিত হওয়া (উপহাস) থেকে।’ (সূত্র: সহিহ বুখারি: ৬৬১৬; সহিহ মুসলিম: ২৭০৭)
আমলের নিয়ম ও ফজিলত
ইসলামি স্কলারদের পরামর্শ অনুযায়ী, সকাল-সন্ধ্যায় কিংবা প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর গভীর বিশ্বাস ও মনোযোগের সঙ্গে এই দোয়াটি পাঠ করা অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত এই আমল করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অকল্যাণকর পরিস্থিতি, লাঞ্ছনা এবং শত্রুর উপহাস থেকে নিরাপদে রাখেন।