আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান তারিখ: ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। আজ শুক্রবার তাঁর ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক বার্তা পোস্ট করা হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
খামেনির বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা
আজকের পোস্টগুলোতে খামেনি মূলত বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া তাঁর ভাষণের মূল অংশগুলোই তুলে ধরেন। একটি পোস্টে তিনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন:
“গত রাতে তেহরান ও আরও কিছু শহরে ধ্বংসোন্মত্ত একদল মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য নিজেদের দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে।”
ডিজিটাল বৈষম্য ও জনমনে ক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার যখন নিশ্চিত করছে যে ইরানিরা গত ১৮ ঘণ্টা ধরে কার্যত অফলাইন বা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, ঠিক সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধানের এই টুইটগুলো জনমনে ও আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা বলছেন:
-
দ্বিমুখী নীতি: একদিকে জনগণের মৌলিক যোগাযোগব্যবস্থা, মেসেজিং অ্যাপ ও তথ্যপ্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারের শীর্ষ নেতারা একই মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার চালাচ্ছেন।
-
তথ্যের নিয়ন্ত্রণ: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ বা মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার ফলে কেবল সরকারের একতরফা বক্তব্যই সামনে আসছে।
বর্তমান সংযোগ পরিস্থিতি
নেটব্লকস ও ক্লাউডফ্লেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে নগণ্য। সাধারণ মানুষের জন্য টুইটার (এক্স), ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমগুলো অনেক আগেই নিষিদ্ধ থাকলেও, বর্তমান ব্ল্যাকআউটে ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।