৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিউনিখ সিকিউরিটি সামিট ২০২৬: রুবিওর ‘আশ্বাস’ বনাম ডেমোক্র্যাটদের ‘বিকল্প’ বার্তা

admin
প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, ২০২৬ ২২:৪৯:২৮
মিউনিখ সিকিউরিটি সামিট ২০২৬: রুবিওর ‘আশ্বাস’ বনাম ডেমোক্র্যাটদের ‘বিকল্প’ বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জার্মানির বিলাসবহুল বায়ারিশার হফ হোটেলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী মিউনিখ সিকিউরিটি সামিটে এ বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মার্কো রুবিও মিত্র দেশগুলোর দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর করতে সচেষ্ট ছিলেন, যদিও ডেমোক্র্যাট নেতারা ইউরোপের মাটিতেই ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।

রুবিওর বার্তা: “আমরা একসাথেই আছি”

সম্মেলনের মূল বক্তা হিসেবে মার্কো রুবিও ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করার সুরে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এমন এক নতুন শতাব্দীর সমৃদ্ধির পথে হাঁটছি যেখানে আমাদের প্রাচীনতম ও প্রিয় মিত্রদের (ইউরোপ) সাথেই রাখতে চাই।” তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংসের নয়, বরং ‘সংস্কারের’ উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ এবং উচ্চ শুল্ক নিয়ে ইউরোপীয়দের উদ্বেগকে তিনি কূটনৈতিক কৌশলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ডেমোক্র্যাটদের ‘বিকল্প’ কূটনীতি

সম্মেলনে উপস্থিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি দলটি রুবিওর বক্তব্যের সমান্তরালে একটি ভিন্ন বার্তা তুলে ধরেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সরাসরি বলেন:

“ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক। তিন বছরের মধ্যেই তিনি থাকবেন না।”

তার এই মন্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া প্রতিনিধি আলেক্সান্ডার ওকাসিও-কর্টেজ (AOC) শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে গণতন্ত্র সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেন।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ২০২৬-এর শঙ্কা

ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সম্মেলনে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালায়, তবে ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Election) প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিল্লিস অবশ্য দাবি করেন, মার্কিন রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও ইউরোপের সাথে কোনো ‘গৃহযুদ্ধে’ জড়ানোর সম্ভাবনা নেই।

সম্মেলনের মূল নির্যাস

  • রুবিওর অবস্থান: মিত্রদের সাথে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা এবং পশ্চিমা সভ্যতা রক্ষার ডাক।

  • ইউরোপের উদ্বেগ: ট্রাম্পের খামখেয়ালি পররাষ্ট্রনীতি (যেমন গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ) এবং বাণিজ্যিক শুল্ক নিয়ে আতঙ্ক।

  • ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা চাল: ইউরোপকে আশ্বস্ত করা যে ট্রাম্প পরবর্তী যুগে আমেরিকা আবার পুরোনো রূপে ফিরবে।


নোট: এই সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পদার্পণ করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেটো (NATO) মিত্রদের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে।