২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড জাহাজ চলাচল: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি

admin
প্রকাশিত ২০ এপ্রিল, সোমবার, ২০২৬ ১০:২৩:৫১
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড জাহাজ চলাচল: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ডসংখ্যক জাহাজ পারাপারের খবর পাওয়া গেছে। গত ১ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) এই জলপথ দিয়ে একদিনে ২০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করেছে।

শিপিং অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘কেপলার’-এর (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, এটি চলমান যুদ্ধের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ জাহাজ চলাচলের রেকর্ড।

সচল রয়েছে ইরানের জ্বালানি ও পণ্য রপ্তানি

কেপলারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শনিবার পার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে পাঁচটি জাহাজ সরাসরি ইরান থেকে পণ্য বোঝাই করে যাত্রা শুরু করেছিল। এসব জাহাজে পেট্রোলিয়াম পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের ধাতু রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছিল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ট্যাংকার, যার গন্তব্য চীন ও ভারত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও চীন ও ভারতের মতো বড় বাজারে ইরানের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকা বৈশ্বিক বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সরবরাহ স্বাভাবিক

হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল ইরানের নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যেমন—সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও সফলভাবে চলাচল করেছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে এই জলপথটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

মার্কিন অবরোধ ও নতুন উত্তেজনা

তবে জাহাজ চলাচলের এই ইতিবাচক চিত্রের সমান্তরালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ এলাকায় একটি ইরানি কার্গো জাহাজ গুলি চালিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এই বিশেষ নৌ অবরোধ শুধুমাত্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর কার্যকর থাকবে। এর জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে ‘কড়া প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের অভিমত

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানি পণ্যের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করছে, অন্যদিকে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। তবে হরমুজের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপ যেকোনো সময় বড় সংঘর্ষের সূত্রপাত করতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করবে।