
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একদিকে শান্তির টেবিল, অন্যদিকে যুদ্ধের দামামা—এই দুইয়ের দোলাচলে পাকিস্তানজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার মার্কিন দাবিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
ওমান সাগরে পাল্টাপাল্টি দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, একটি ইরানি জাহাজ তাদের সিগন্যাল অমান্য করায় মার্কিন ডেস্ট্রয়ার সেটির ইঞ্জিন রুমে গোলা ছুড়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে মার্কিন মেরিনদের হেফাজতে।
অন্যদিকে, ইরান এই দাবিকে ‘ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির মতে, মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে ধাওয়া করলে আইআরজিসি (IRGC) নৌ ইউনিটের পাল্টা প্রতিরোধে তারা পিছু হটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দল, ইরানের অনীহা
আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশাল ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ কার্গো বিমান নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিয়ে ইতিমধ্যে নুর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশেষ প্রতিনিধি দল আজ সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন। যদিও মার্কিন দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন—ভাইরাস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নাকি জারেড কুশনার—তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের তথ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
তবে তেহরান এই আলোচনায় অংশ নিতে সাফ মানা করে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক প্রত্যাশা ও নৌ অবরোধের’ কারণে তারা এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে না। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক টুইটে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যতক্ষণ অবরোধ থাকবে, ততক্ষণ বিরোধও থাকবে।”
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
আগামী বুধবার দুই সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “যদি তারা চুক্তি না মানে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। গত ৪৭ বছরে যা কেউ করতে পারেনি, ইরানের বিরুদ্ধে সেই ব্যবস্থা নেওয়া আমার জন্য সম্মানের বিষয় হবে।”
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
আলোচনাকে কেন্দ্র করে যমজ শহর ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি এখন দুর্গ। গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো হলো:
-
রেড জোন সিল: রাজধানীর সব প্রবেশপথ বন্ধ করে ১০ হাজার কমান্ডো ও স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছে।
-
অফিস ও আদালত: সোমবার সব সরকারি অফিসকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিচার বিভাগের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
-
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: মেট্রো বাসসহ সব গণপরিবহন বন্ধ এবং মারগাল্লা পাহাড়ের হাইকিং ট্রেইলগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বুধবারের মধ্যে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।