প্রযুক্তি ডেস্ক | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ আবারও তাঁর পুরনো প্রেম ‘কোডিং’-এ ফিরে গেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দৌড়ে গুগল ও ওপেনএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতে নিজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ দপ্তার ছেড়ে এখন গবেষকদের সঙ্গে একই ডেস্কে বসে কাজ করছেন তিনি।
এআই ল্যাবে জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিটে’ মেটার প্রেসিডেন্ট দিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি বলেন, “মার্ক তাঁর ডেস্ক সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি এখন এআই ল্যাবে আলেকজান্ডার ওয়াং ও ন্যাট ফ্রিডম্যানের সঙ্গেই বসছেন এবং সারাদিন কোডিং করছেন।”
জাকারবার্গ মনে করেন, মেটার এআই মডেলকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী করতে হলে তাঁকে একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে এর কারিগরি দিকগুলো বুঝতে হবে।
সক্রিয় অংশগ্রহণের কিছু মূল তথ্য:
-
সরাসরি কোডিং: জাকারবার্গ প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় সরাসরি এআই প্রজেক্টের কোডিং এবং অন্যদের কাজ পর্যালোচনায় ব্যয় করছেন।
-
বিশাল বিনিয়োগ: ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (এমএসএল) গঠনের লক্ষ্যে মেটা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে, যার মধ্যে স্কেল এআই-তে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ অন্যতম।
-
দল গঠন: স্কেল এআই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার ওয়াং এবং গিটহাবের সাবেক সিইও ন্যাট ফ্রিডম্যানের মতো মহারথীদের মেটাতে ভেড়াতে জাকারবার্গ নিজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
‘মিউজ স্পার্ক’-এর সাফল্য ও বাজার প্রতিক্রিয়া
মেটার এই নতুন প্রচেষ্টার সুফল মিলতে শুরু করেছে। সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের তৈরি প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ উন্মোচনের পর মেটার শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। জাকারবার্গ এটিকে এই বিভাগের ‘প্রথম মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে লড়াই
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি (ওপেনএআই), জেমিনি (গুগল) এবং ক্লদ (অ্যানথ্রোপিক)-এর সঙ্গে মেটার তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ মডেল ‘ক্লদ মিথোস’ নিরাপত্তার অজুহাতে উন্মুক্ত না করলেও, মেটা তাদের ওপেন সোর্স ও শক্তিশালী এআই মডেলের মাধ্যমে বাজার দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেজ্ঞদের মতে, একজন সিইও-র এভাবে সরাসরি কোডিং ডেস্কে ফিরে আসা ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বিশ্বে টিকে থাকতে মেটা কতটা মরিয়া।