২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইবি শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি ও মারধর: ঝিনাইদহে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা

admin
প্রকাশিত ২৬ এপ্রিল, রবিবার, ২০২৬ ১১:৪৩:২৯
ইবি শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি ও মারধর: ঝিনাইদহে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বিকেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্তদের পরিচয়

মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— হাসিবুর রহমান (২০), সোহেল আহম্মদ (২১), খন্দকার সাব্বির (২০) ও মাশরাফি আলম প্রাপ্পো।

ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই ছাত্রী তাঁদের বন্ধুদের সঙ্গে ঝিনাইদহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাস বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় একদল যুবক তাঁদের লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে যুবকরা সংঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।

এ সময় বাধা দিতে গেলে শাকিল জিম নামে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযুক্তরা পুলিশের সামনেই বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত রাখে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা অনুমতি ছাড়া ধারণ করা ওই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডির মাধ্যমে তাঁদের মানহানি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইশমাম হোসেন তন্দ্রা বলেন, “আমি আমার স্বামী ও বন্ধুদের নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর এই হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। পরে তারা ইন্টারনেটে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করছে।”

পুলিশের বক্তব্য

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার দিন খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা এজাহার পর্যালোচনা করছি এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।”