৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাতভর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নগরজুড়ে চিরুনি

admin
প্রকাশিত ০৯ জুন, মঙ্গলবার, ২০২৬ ০০:১৬:৪৫
রাতভর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নগরজুড়ে চিরুনি

স্টাফ রিপোর্টার | সিলেট: সিলেটকে মাদক, জুয়া ও অপরাধমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে ব্যাপক ঝটিকা অভিযান। গত শুক্রবার (০৬ জুন) সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদক ও জুয়ার আসর থেকে হাতেনাতে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৭৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ১৭ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তিনটি পৃথক টিম গঠন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাকিবুল আলম, শিহাব সারার অভী এবং বিশ্বাস সাহরিয়া ইসলাম।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে নগরীর হুমায়ূন রশীদ চত্বর, কদমতলী, বরইকান্দি, জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট এলাকা, শাহপরান, কুচাই, ক্বীন ব্রিজ এলাকা এবং দক্ষিণ সুরমাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, জুয়ার আসর পরিচালনা এবং সমাজবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় মোট ৭৫টি মামলা দায়ের করা হয়।

এর মধ্যে ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ জনকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা করেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিলেটে মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড, মাদক কারবার ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে জনসাধারণের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে নগরীতে মাদক ও জুয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।