১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটের গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

admin
প্রকাশিত ১১ জুলাই, শনিবার, ২০২৬ ০২:৫৫:৫৪
সিলেটের গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

সিলেটের গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর সীমান্তে মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষকে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে প্ররোচিত করা হচ্ছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী জনপদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্তজুড়ে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই চক্রের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকে ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সাব্বির আহমদ (২৯), স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ, বর্তমানে মামার দোকান এলাকায় বসবাসকারী; লাল মিয়া (৩০), পিতা আমিন আলী, দক্ষিণ প্রান্তমাই; জুয়েল রানা (৩০), পিতা শাহজাহান, উত্তর প্রতাপপুর; কাউসার আহমদ (২৮) ও আফসার আহমদ (২৬), পিতা জয়নুদ্দিন, উত্তর প্রতাপপুর; এনাম আহমদ (২৮), পিতা আব্দুল মালেক, ডিবির হাওর; ইউসুফ আহমদ (২৬), পিতা নেনা মিয়া, ডিবির হাওর এবং জুবেল আহমদ (২৫), ডিবির হাওর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়াইনঘাটের পানতুমাই, বাদেশ্বর, হাজিপুর, লামাপুঞ্জি, লন্ডনী বাজার, সংগ্রামপুঞ্জি, তামাবিল, নলঝুরি এবং জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর সীমান্তকে এই চক্র অবৈধ সীমান্ত পারাপারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, সহজ-সরল মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পারাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপহরণ ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, অভিযুক্তদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, অবৈধ সীমান্ত রুটে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সাব্বির আহমদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার এক বন্ধু ফোন রিসিভ করে জানান, “সাব্বির এখানে নেই।”

কাউসার আহমদ বলেন, “আমি আগে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন আর করি না।”

এনাম আহমদ বলেন, “এ ধরনের বিষয় নিয়ে আমাকে ফোন দেবেন না, আমরা কোনো রকমে চলছি।”

ইউসুফ আহমদের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শুনেই কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। লাল মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, মানব পাচারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।