১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিসের ভয় জৈন্তাপুরবাসী চুপ

admin
প্রকাশিত ১১ জুলাই, শনিবার, ২০২৬ ১২:০৭:৩৮
কিসের ভয় জৈন্তাপুরবাসী চুপ

কিসের ভয় জৈন্তাপুরবাসী চুপ

ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় জৈন্তাপুর: চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীকে ঘিরে তদন্ত শুরু, ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওগুলোতে তাকে মাদক সেবন করতে দেখা যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হলেও, চেয়ারম্যান সেগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন। দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে ঘটনাটি এখন প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় এসেছে।

উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিটি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এদিকে ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে। একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। কেউ কেউ সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর হুমকিমূলক বার্তা পাওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিতর্কের গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তির জন্য শুধু প্রশাসনিক তদন্তই যথেষ্ট নয়; ভিডিওগুলোর ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণও প্রয়োজন। তাদের মতে, চেয়ারম্যান যেহেতু ভিডিওগুলোকে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন, তাই বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভিডিওর প্রযুক্তিগত পরীক্ষা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সহজ হবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ডোপ টেস্টের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই দাবি জোরালো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে নিরপেক্ষ তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আইনসম্মত প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানকে ঘিরে আরও কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হলেও, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, প্রযুক্তিগত ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। এতে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি, উদ্বেগ ও বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য সমাধান নিশ্চিত হবে।