৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল-চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: পুলিশ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে প্রশ্রয়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

admin
প্রকাশিত ০৭ জুলাই, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২০:৩২:১২
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল-চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: পুলিশ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে প্রশ্রয়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল-চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: পুলিশ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে প্রশ্রয়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সিলেট প্রতিনিধি :: সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো রোগী ও স্বজনের পদচারণায় মুখর এই হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালাল চক্র ও মোবাইল চোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের কিছু সদস্যের কাছ থেকে তারা প্রশ্রয় পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন প্রবেশপথ, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং ওয়ার্ড এলাকায় দালালরা প্রকাশ্যে অবস্থান করে রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায়। এতে অনেক রোগী প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেছেন, হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালদের কাছ থেকে প্রতিদিন মাথাপিছু প্রায় ৩০০ টাকা, বিভিন্ন দোকান থেকে দৈনিক ২০০ টাকা এবং মোবাইল চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। তাদের অভিযোগ, এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের কারণেই সংশ্লিষ্ট চক্রগুলো নির্ভয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগেরও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। অনেকেই অভিযোগ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না বলে দাবি করেছেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতাল এলাকাকে দালাল ও চোরচক্রমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।