৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পতেঙ্গার কাটগড়ে মনি প্রকাশ পিচ্ছি মনি অনৈতিক সাম্রাজ্যে পথভ্রষ্ট তরুন সমাজ, প্রশাসন নিরব

admin
প্রকাশিত ০৪ আগস্ট, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২০:০৮:২০
পতেঙ্গার কাটগড়ে মনি প্রকাশ পিচ্ছি মনি অনৈতিক সাম্রাজ্যে পথভ্রষ্ট তরুন সমাজ, প্রশাসন নিরব

পতেঙ্গার কাটগড়ে মনি প্রকাশ পিচ্ছি মনি অনৈতিক সাম্রাজ্যে পথভ্রষ্ট তরুন সমাজ, প্রশাসন নিরব

ওমর ফারুক, ক্রাইম রিপোর্টার :- বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কাটগড় এলাকার মোজ্জাফফর ভবনের অনৈতিক সিন্ডিকেট এখন সাধারণ মানুষের আতঙ্কের নাম। ১ম পর্বে সংবাদ প্রকাশের পর থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তথাকথিত গৃহবধূ কিংবা সাধারণ বাসিন্দার আড়ালে মনি প্রকাশ পিচ্ছি মনি যে বিশাল অপকর্মের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে তার বিষাক্ত ছোবলে অতিষ্ঠ গোটা এলাকা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু পতিতাবৃত্তি কিংবা মাদকের ব্যবসাই নয়, পতেঙ্গায় নিজেদের ক্ষমতার দাপটে তৈরি করেছে এক ত্রাসের রাজত্ব। তাদের অন্ধকার জগতের ফাঁদে পা দিতে অস্বীকার করায় সাধারণ নিঃস্ব নারীদের ওপর নামিয়ে আনা হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন। একই সাথে তাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সোনালী খবরের প্রতিবেদককেও মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এখন প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশ ও গুমের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে মনি – প্রকাশ পিচ্ছি মনি ও তাদের পোষ্য বখাটে বাহিনী।

কাটগড় মোজ্জাফফর ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলায় গড়ে ওঠা এই আস্তানায় নিত্যনতুন অচেনা মেয়ে ও বখাটেদের যাতায়াত দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে “মনি প্রকাশ পিচ্ছি মনি” নিজেদের পিঠ বাঁচাতে স্থানীয় কিছু উঠতি ও প্রভাবশালী নেতাকর্মীর নাম ভাঙিয়ে চলায়, কেউ তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খোলার সাহস পায় না। এলাকায় সাধারণ মানুষ কিংবা স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিরা একাধিকবার অনৈতিক কাজ বন্ধ করার জন্য সামাজিক ও নৈতিকভাবে সতর্ক করলেও সাথি-মনি তাদের দাপট দেখিয়ে তা উড়িয়ে দিয়েছে। উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন ভুয়া মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখায় তারা। যুবসমাজকে মাদকের মারাত্মক গ্রাস ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বাড়িওয়ালা বাবুল মিয়া মাস শেষে মোটা অঙ্কের ভাড়া ও অগ্রিম জামানতের মোহে অন্ধ হয়ে এই অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করে অনৈতিক চক্রটিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন।
মনি – প্রকাশ পিচ্ছি মনি”এই অপরাধ সাম্রাজ্যের ভয়াবহ শিকার হয়েছেন মোজ্জাফফর ভবনের ৩য় তলার ১১ নম্বর রুমের ভাড়াটিয়া অসহায় নারী লাকি। স্বামীহারা লাকি তার দুটি ছোট শিশু সন্তানকে বাঁচাতে দিনরাত গার্মেন্টসে কঠোর পরিশ্রম করেন। একই ভবনে থাকার সুবাদে মনির সাথে পরিচয় হলেও লাকি জানতেন না মনির পেছনের ভয়ঙ্কর রূপ। লাকি জানান, মনির ঘরে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়ে ও অচেনা পুরুষ আসত। হঠাৎ একদিন “মনি প্রকাশ মনি” লাকির ঘরে প্রবেশ করে তাকে তাদের দেহব্যবসার সিন্ডিকেটে যোগ দেওয়ার অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। লোভ দেখায় অল্প সময়ে প্রচুর টাকা উপার্জনের। কিন্তু সৎ পথে চালিত লাকি স্পষ্ট ভাষায় তাদের এই ঘৃণ্য প্রস্তাবে অসম্মতি জানান এবং প্রতিবাদ করেন।
প্রতিবাদ করাই লাকির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই “মনি এবং মনির” তথাকথিত স্বামী সোহাগ মিলে লাকিকে চরম ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। বাসায় এসে প্রতিনিয়ত গালিগালাজ, উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সাথি ও মনির নির্মম অত্যাচারে টিকতে না পেরে একপর্যায়ে লাকি বাধ্য হয়ে অন্যত্রে বাসা পরিবর্তন করেন। কিন্তু তাতেও তাদের হিংস্র ক্ষোভ কমেনি। একদিন প্রয়োজনীয় মশার কয়েল কিনতে লাকি ঘরের বাইরে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অনৈতিক চক্রের মূলহোতা মনি, তার স্বামী সোহাগ, ক্যাডার আলমগীর ও রাহাতসহ একদল বখাটে সন্ত্রাসী চরপাড়া সুমনের দোকানের সামনে অসহায় লাকির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে লাকির একটি হাত ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ভাঙা হাত ও দুই অবুঝ সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন লাকি।
এত বড় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভুক্তভোগী লাকি নিজেই পতেঙ্গা মডেল থানায় গিয়ে অভিযুক্ত মনি, সোহাগ, আলমগীর ও রাহাতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পতেঙ্গা থানার এসআই শাহজাহানকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহজাহান আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী লাকি চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন না এবং তদন্তে মারাত্মক গাফিলতি প্রদর্শন করছেন। অপরাধীরা এলাকায় বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং লাকিকে আবারও হুমকি দিচ্ছে। পতেঙ্গা থানার এই উদাসীনতা ও আসামিদের মদদ দেওয়ার বিষয়টি পতেঙ্গাবাসীকে হতবাক করেছে।
“মনির” অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে প্রথম পর্বের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের পর থেকেই অপরাধী চক্রের ঘুম হারাম হয়ে যায়। খবর প্রকাশের পরপরই চক্রের পক্ষ থেকে দৈনিক সোনালী খবরের প্রতিবেদকের সাথে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখা এবং দ্বিতীয় পর্ব না ছাপানোর বিনিময়ে প্রতিবেদককে অঢেল অর্থ ও মাসোয়ারার প্রলোভন দেখিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টা চালায় “মনি প্রকাশ পিচ্ছি মনি”র লোকজন। কিন্তু অনৈতিক এই সুবিধা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে চক্রটির আসল রূপ বেরিয়ে আসে।
ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়ে এবার তারা নেমেছে সরাসরি হুমকিতে। বিগত কয়েকদিন ধরে অপরিচিত নানা নম্বর থেকে ফোন করে প্রতিবেদককে দেখে নেওয়া, পতেঙ্গায় প্রবেশ করলে পঙ্গু করে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অনবরত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে “মনির” সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু কোনো হুমকি বা ভয় দেখিয়ে সত্য গোপন রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও অনুসন্ধানী দল। একদিকে পতেঙ্গার তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া, অন্যদিকে নিঃস্ব নারীদের মারধর এবং প্রতিবাদী কণ্ঠ রুদ্ধ করতে সাংবাদিকেদের হুমকি সব মিলিয়ে পতেঙ্গার কাটগড় এলাকা এখন চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। পতেঙ্গা থানার ওসির আশ্বাস সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীরা এখন আরও বেশি বেপরোয়া। এমতাবস্থায় পতেঙ্গাবাসী অবিলম্বে এই অনৈতিক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া, লাকির ওপর হামলাকারী মনি, সোহাগদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মাননীয় পুলিশ কমিশনার ও চট্টগ্রাম বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের দ্রুত ও প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।