২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লৌহজংয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ: ধর্ষকের ফাঁসি ও সালিসকারী ইউপি সদস্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

admin
প্রকাশিত ২৬ এপ্রিল, রবিবার, ২০২৬ ১৬:৫১:০১
লৌহজংয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ: ধর্ষকের ফাঁসি ও সালিসকারী ইউপি সদস্যের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | মুন্সিগঞ্জ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের ঘটনা এবং পরবর্তীতে বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কলমা এলাকা। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ সড়কে মানববন্ধন করে অভিযুক্ত ধর্ষক আল মামুন ফরাজির ফাঁসি এবং সালিসকারী ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন হিরণ ওরফে হিরণ দোকানদারের অপসারণ দাবি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার বাশিরা গ্রামের ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে টাকার লোভ দেখিয়ে পাশের একটি ভুট্টা খেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন ৫৫ বছর বয়সী আল মামুন ফরাজী। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীটিকে উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মামুন ফরাজী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

‘গোপন সালিস’ ও হুমকির অভিযোগ

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে নিজের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি গোপন সালিস বসান তিনি। সালিসে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে মাত্র ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা এই অন্যায্য প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হিরণ দোকানদার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত শুক্রবার কলমাবাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বর্তমান আইনি অবস্থা

এই ঘটনায় গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে লৌহজং থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজীকে আটক করে মুন্সিগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি

আজকের মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ধর্ষকের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন, তাই তাঁকে অবিলম্বে ইউপি সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানানো হয়।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবন্ধী কিশোরীর ওপর এমন নৃশংসতা এবং পরবর্তীতে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিচারের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ধর্ষক নয়, বরং যারা অপরাধীকে মদত দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।