আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কলম্বো
২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে আত্মঘাতী বোমা হামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কার স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এসআইএস) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সুরেশ সাল্লিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলম্বোয় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।
নাটকীয় গ্রেপ্তার ও তল্লাশি
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানের সূত্রমতে, সুরেশ সাল্লি সকালে একটি থিংক ট্যাংকে তাঁর গবেষণা কাজে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই সিআইডি কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। গ্রেপ্তারের দুই ঘণ্টা পর সিআইডির পাঁচটি পৃথক দল একযোগে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি শুরু করে। যদিও এই তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
পেশাগত পরিচিতি ও বিতর্ক
সুরেশ সাল্লি শ্রীলঙ্কার সামরিক ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি প্রথম সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এসআইএস-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে তাকে অন্যতম প্রধান কারিগর মনে করা হতো। তবে ইস্টার সানডে হামলার তদন্তে বারবার তাঁর নাম আসায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন।
প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সালের সেই রক্তাক্ত ইস্টার সানডে
২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে সিরিজ আত্মঘাতী হামলায় ৪৫ জন বিদেশিসহ মোট ২৬৯ জন নিহত হন। আহত হন ৫০০-এর বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও ছিল।
তদন্তে উঠে আসে যে, ভারতসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা হামলার আগাম সতর্কবার্তা দিলেও তৎকালীন শ্রীলঙ্কা সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ ও আইনি পরিস্থিতি
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হামলার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র বা তথ্য গোপন সংক্রান্ত বিষয়ে সুরেশ সাল্লির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। যদিও সাল্লি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
-
বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: তদন্তের স্বার্থে প্রায় এক বছর আগেই আদালতের নির্দেশে তাঁর দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
-
বর্তমান অবস্থা: তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে নাকি আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট এর আগে এই হামলার নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জরিমানা করেছিলেন। সুরেশ সাল্লির এই গ্রেপ্তার দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।