৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইসিসিতে দুতার্তের বিচার শুরু: মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ শুনানি

admin
প্রকাশিত ২৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ০০:০৫:২০
আইসিসিতে দুতার্তের বিচার শুরু: মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ শুনানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের হেগে প্রসিকিউটররা তাঁর শাসনামলে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলোর তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করেন।

শুনানির মূল বিষয়বস্তু

চার দিনব্যাপী এই ‘কনফার্মেশন-অব-চার্জ’ শুনানিতে বিচারকেরা খতিয়ে দেখবেন দুতার্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ আছে কি না। শুনানি শেষে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিচারকেরা তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

অভিযোগের ব্যাপ্তি

প্রসিকিউটররা দুতার্তের বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি সময়ের অপরাধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন: ১. দাভাও সিটির মেয়র (২০১৩-১৬): থাকাকালীন ১৯টি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। ২. প্রেসিডেন্ট থাকাকালে (২০১৬-১৭): ১৪ জন শীর্ষ মাদক কারবারিকে পরিকল্পিত হত্যা। ৩. দেশজুড়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ অভিযান (২০১৬-১৮): ৪৩ জন সাধারণ মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতাকে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।

যদিও প্রসিকিউটররা প্রাথমিকভাবে ৭৬টি হত্যাকাণ্ডের তালিকা দিয়েছেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি—নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়াতে পারে।

দুতার্তের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি

৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের শেভেনিনজেন কারাগারের ডিটেনশন ইউনিটে বন্দী রয়েছেন। শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও আদালতকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি তাঁর ‘উদ্ধত’ অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন:

  • তিনি আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করেন না।

  • নিজের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য তিনি ‘গর্বিত’।

  • বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে তাঁকে ‘অপহরণ’ করতে সহযোগিতার অভিযোগ আনেন।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য

এশিয়ায় কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আইসিসিতে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া প্রথম ব্যক্তি হলেন রদ্রিগো দুতার্তে। ২০১৯ সালে ফিলিপাইন আইসিসি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেও, আদালত রায় দিয়েছেন যে সদস্য থাকাকালীন (২০১১-২০১৯) করা অপরাধের বিচার করার পূর্ণ অধিকার আদালতের রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই শুনানিকে ভুক্তভোগীদের জন্য ‘সত্যের মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ২০১৭ সালে দুই ছেলেকে হারানো মা লোর পাসকো বলেন, “আমি নার্ভাস, কিন্তু অপরাধীদের জবাবদিহি হওয়া জরুরি।”