সিলেটে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পর এবার ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। সম্প্রতি গঠিত সিলেট বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক চার নেতা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গত সোমবার সিলেট জেলা এবং বৃহস্পতিবার বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে। সাত সদস্যের দুটি কমিটিতে দুজন করে সাবেক ছাত্রদল নেতা রয়েছেন।
বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে সিলেটের স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একই কমিটির সদস্য সাবেক ক্রিকেটার মোস্তফা কামাল পাশা মওদুদ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
অন্যদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক রেজাউল করিম নাচন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক। কমিটির আরেক সদস্য মকসুদ আহমদ ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চারজনই কোনো না কোনোভাবে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসানোর ধারাবাহিকতায় এবার ক্রীড়া সংস্থাতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচন বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থাকে গতিশীল করা। দায়িত্ব পাওয়ার পর দ্রুত বৈঠক করে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি জানান, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এর আগে বিএনপি সরকার গঠনের পর সিলেটের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে মিফতাহ্ সিদ্দিকী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক হিসেবে বদরুজ্জামান সেলিম দায়িত্ব পেয়েছেন।
দলের নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে এসব নিয়োগে কতটা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।