কারাকাস/ওয়াশিংটন:
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হামলার ধরন বা লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
ভেনেজুয়েলা সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির একাধিক রাজ্যে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সরকার এই ঘটনাকে সরাসরি ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যে হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এমন প্রচেষ্টা কখনো সফল হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে জানানো হয়, কারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহার থেকে বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়। এফএএ একে ‘চলমান সামরিক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এফএএ-এর এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানীর একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য হবে মাদক চোরাচালান দমন।
অন্যদিকে, মাদুরোর অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে কার্যত উপনিবেশে পরিণত করতে চায় এবং দেশটির বিপুল জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদের দিকেই তাদের মূল নজর।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর পুনর্নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দেয়নি।