৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণ, প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে হামলার আশঙ্কা

admin
প্রকাশিত ০৩ জানুয়ারি, শনিবার, ২০২৬ ১৪:৪৫:১৪
কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণ, প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে হামলার আশঙ্কা

Manual2 Ad Code

কারাকাস:
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত আল–জাজিরার প্রতিনিধি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা বা এর আশপাশে এই হামলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে কারাকাসের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যেও বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, শহরে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের আওয়াজ পাওয়া গেছে। কারাকাসের দক্ষিণাঞ্চলে, যেখানে একটি বড় সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

Manual3 Ad Code

আল–জাজিরার হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার ভোরে কারাকাসের একটি জলাধারের পাশের স্থাপনা থেকে আগুনের গোলা ও ঘন কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। চিলির সান্তিয়াগো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে আল–জাজিরার সাংবাদিক লুসিয়া নিউম্যান বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানান, বিস্ফোরণটি ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি বা তার নিকটবর্তী এলাকায় ঘটেছে।

Manual6 Ad Code

নিউম্যান বলেন, ‘ফুয়ের্তে তিউনা ভেনেজুয়েলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি। ওই এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে, এরপরই পুরো এলাকায় ব্ল্যাকআউট নেমে আসে।’

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—এমন একটি অনুমান করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। নিউম্যানের মতে, অভ্যন্তরীণ নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সামরিক বাহিনীর ভেতরের কোনো গোষ্ঠী, যারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়, তারাও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

সম্প্রতি মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল ভেনেজুয়েলা। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেই সে কথা জানান। তবে গত সপ্তাহে সিআইএ-এর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলায় হামলার যে খবর ছড়িয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তিনি কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। তবে আগের মতোই তাঁর অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র তাঁর সরকারকে উৎখাত করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের দখল নিতে চায়।

Manual1 Ad Code

মাদুরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যদি তেলের প্রয়োজন হয়, তাহলে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের সুযোগ আছে, যেমনটি শেভরন করছে।’ উল্লেখ্য, মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন বর্তমানে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার অভিযোগ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মাদুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে কয়েক দিন পর কথা বলা যেতে পারে।’

মাদুরোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতেই স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল বছরের শেষ দিনে। ওই দিনই মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদক পাচারের অভিযোগে পাঁচটি নৌকায় হামলা চালিয়ে অন্তত পাঁচজনকে হত্যা করে।

Manual1 Ad Code

ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্যমতে, ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত মোট ৩৫টি নৌকায় হামলা চালানো হয়েছে, এতে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।