১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক: উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি ও চরম জনদুর্ভোগ

admin
প্রকাশিত ১৬ জুন, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১০:২১:৪১
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক: উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি ও চরম জনদুর্ভোগ

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক: উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি ও চরম জনদুর্ভোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক|কুমিল্লা : কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজ যেন সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও সরেজমিনে দেখা ছবিতে স্পষ্ট, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চলাচলের রাস্তা এখন কাদা ও গর্তে পরিণত হয়েছে, যা যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত।

ভোগান্তির নেপথ্যে যা ঘটছে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নির্মাণ কাজের ফলে মহাসড়কের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হালকা বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো পিচ্ছিল কাদায় রূপ নিচ্ছে। ভারী যানবাহনসহ সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো এই কর্দমাক্ত পথে আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নির্মাণাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী বা বিকল্প চলাচলের পথ (Service Road) সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জনজীবনের ওপর প্রভাব পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির: কাদা ও গর্তের কারণে যানবাহনের গতিবেগ নেমে এসেছে ন্যূনতম পর্যায়ে, যা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করছে।

যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি: পিচ্ছিল রাস্তা ও গভীর গর্তে চাকা আটকে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস।

স্বাস্থ্যঝুঁকি: শুষ্ক মৌসুমে অসহনীয় ধুলোবালি এবং বর্ষায় কাদা-পানিতে একাকার রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন পথচারী ও এলাকাবাসী।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গুণগত মান তদারকির অভাব এবং ধীরগতির কারণেই সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়সারা কাজ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এই দুর্ভোগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন ভুক্তভোগীরা।

জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বালু বা ইটের খোয়া ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করা এবং নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় জনতা জোর দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শুধু ইট বা বালু দিয়ে সাময়িক মেরামত নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিতে সড়কের স্থায়ী সংস্কারই এখন সময়ের দাবি। দ্রুত এই মহাসড়কের মেরামত কাজ শুরু না হলে জনদুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।