আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, এই বিশাল দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলতে ডেনমার্কের হাতে মাত্র ‘দুটি কুকুরের স্লেজ’ (Dog Sleds) রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন।
রাশিয়া ও চীনের হুমকির দাবি
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বলতে আছে মূলত দুটি ডগ স্লেড। অথচ সেখানে রাশিয়ার ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন এবং চীনের ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা এটা হতে দেব না।”
উল্লেখ্য, উনিশ শতক থেকেই মার্কিন কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আর্কটিকের এই দ্বীপটিকে আমেরিকার অংশ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে সেখানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে ডেনমার্ক সরকার জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে ডগ স্লেড টহলের পাশাপাশি বিদ্যমান চারটি জাহাজের বহরে আরও দুটি নতুন জাহাজ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে কোপেনহেগেন। তবে সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সেখানে বর্তমানে ১২টি ডগ স্লেড ইউনিট কর্মরত রয়েছে।
এদিকে নর্ডিক দেশগুলো ট্রাম্পের এই সামরিক হুমকির দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলে রাশিয়া বা চীনের কোনো অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতা শনাক্ত হয়নি।
একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কূটনীতিক গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “সেখানে রুশ বা চীনাদের অবস্থানের দাবি একেবারেই অসত্য। কোনো জাহাজ বা সাবমেরিনের উপস্থিতি সেখানে নেই।”
প্রেক্ষাপট: মার্কিন আধিপত্য ও ভূ-রাজনীতি
চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের ঘটনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে পশ্চিম গোলার্ধে ওয়াশিংটনের আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলে রুশ এবং চীনা প্রভাব মোকাবিলাই ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।