ওয়াশিংটন/ঢাকা, বুধবার:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীন ও রাশিয়া কেবল যুক্তরাষ্ট্রকেই ভয় ও সম্মান করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ন্যাটো, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) সমুদ্রপথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ন্যাটোর পাশে থাকবে। এমনকি ন্যাটো যদি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ায়, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একই পোস্টে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ন্যাটোর অধিকাংশ দেশ জিডিপির দুই শতাংশও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করত না এবং নিজেদের আর্থিক দায়ও সঠিকভাবে পরিশোধ করছিল না। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বোকার মতো’ অন্যদের হয়ে খরচ বহন করতে হচ্ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে রাশিয়া ইতিমধ্যেই পুরো ইউক্রেন দখল করে নিত। তিনি আরও বলেন, তিনি একাই আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন, যার ফলে লাখো মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ন্যাটোভুক্ত দেশ নরওয়ে ‘বোকামির পরিচয় দিয়ে’ তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। তবে তিনি বলেন, পুরস্কার পাওয়া বা না পাওয়া তাঁর কাছে মুখ্য নয়; বরং মানুষের জীবন বাঁচাতে পারাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্টের শেষাংশে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘চীন ও রাশিয়া যে একমাত্র দেশকে ভয় ও সম্মান করে, সেটি পুনর্গঠিত যুক্তরাষ্ট্র।’ তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ন্যাটো, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ট্রাম্পের এসব দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।