৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় জনতা পার্টির নিবন্ধন না পাওয়া সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা দায়ী নির্বাচন কমিশনের লিখিত চিঠি

admin
প্রকাশিত ০৬ নভেম্বর, শুক্রবার, ২০২৬ ১৭:৩৪:৩৯
জাতীয় জনতা পার্টির নিবন্ধন না পাওয়া সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা দায়ী নির্বাচন কমিশনের লিখিত চিঠি

জাতীয় জনতা পার্টির নিবন্ধন না পাওয়া সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা দায়ী নির্বাচন কমিশনের লিখিত চিঠি

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙবীর, জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টির নিবন্ধন না পাওয়ার জন্য দায়ী সংগঠনিক ধারাবাহিকতা নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,তা এখন পর্যালোচনার সময় এসেছে।

এমএজি ওসমানীর জাতীয় জনতা পার্টি নিবন্ধন যদি হত তাহলে সুবিধা ভোগীদের লাভ হত।তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন বিক্রি করত,লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরতো। আর যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে কেউ কেউ জয়ী হত তাহলে ওসমানীর মার্যাদা বিলিন হত।আল্লাহ যা করেন ভালো করেছেন। বিগত নির্বাচন কি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়েছে?

রাজনৈতিক মতের মিল না থাকায় এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এম এ জি ওসমানী একটি গণনীতি রুপরেখার মাধ্যমে গুণীজনদের মতমতের মাধ্যমে এক রাজনৈতিক দল, জাতীয় জনতা পার্টি গঠন করেন।পার্টির শ্লোগান, দেশ কার,দেশ কার,জনতার,জনতার,জনতার এই দেশ জনতাকে ফিরিয়ে দাও।

এইদলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম এ জি ওসমানী।১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জেনারেল ওসমানী মৃত্যু বরন করলে, অবঃ প্রাপ্ত মেজর এম এইচ খান কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।মধ্যে সল্প মেয়াদে আরো ১ জন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন,তাদের নাম আমার জানা নেই। এরপর জেনারেল ওসমানীর ঘনিষ্ঠভাজন ও জনতাপার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য,সাবেক সংসদ সদস্য, এডভোকেট নুুরুল ইসলাম খান জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং সাধারন সম্পাদকের দায়ীত্ব পালন করেন,ওসমানীর আরেক ঘনিষ্ঠ স্নেহধন্য জাতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আরেক সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরু।তাঁরা সম্ভবত এক নাগাড়ে কয়েক যুগ পার্টি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে প্রয়াত চেয়ারম্যান এডভোকেট নুরুল ইসলাম খানের সূযোগ্য পূত্র, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী তাহমিনুল ইসলাম খান চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরু।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ জি ওসমানী ও এডভোকেট নুুরুল ইসলাম খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এম এ জি ওসমানী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হন।

উল্লেখ্য, নুরুল ইসলাম খান ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-৭ আসন (বর্তমান সিলেট-২) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।বয়সের দিকে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য ছিলেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিলেট-২ আসন থেকে পরাজিত হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের প্রতিদন্ধী হয়ে জাতীয় জনতা পার্টির মই মার্কা নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে পরাজিত হন এমএজি ওসমানী। দুটি জাতীয় নির্বাচনে এডভোকেট নুরুল ইসলাম খান ও এম এ জি ওসমানী জাতীয় জনতা পার্টির মই মার্কা প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট নুুরুল ইসলাম খানের মৃত্যু হলে পরিবর্তেতে বৃটেন প্রবাসী শাহ মুহাম্মদ আবিদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়।তিনিও ২০২৪ সালে মৃত্যুবরন করলে দাবী উঠে সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নুরুল ইসলাম খানে সুযোগ্য পূত্র, জাতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তাহমিনুল ইসলামকে দলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার।এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।

কিন্তু পার্টির নতুন সদস্য ও জাতীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হুমাইয়ুন কবির আকন, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরুকে ম্যানেজ করে অচেনা বেশকিছু লোককে জতীয় জনতা পার্টির সদস্য করেন।সেইসব লোককে দলের বিভিন্ন পদপদবী দেন।যাদের জাতীয় জনতাপার্টির নীতিআদর্শ ও এম এ জি সম্পর্কে কোন ধারনা নেই।

দলের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী সাধারন সভা ডেকে জুলাই আন্দোলনের পর অজ্ঞাত লোকদের পার্টির সদস্য দেখিয়ে গঠনতন্ত্রের বাহানা দিয়ে এডভোকেট হুমাইয়ুন কবির আকনকে জাতীয় জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার কথাও শোনা যায়।তখন প্রস্তাব আসে মুজিবুর রহমান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার অতবা এডভোকেট তাহমিনুল ইসলামকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার।

কিন্তু পূর্ব প্লান মত তারা দলের মনগড়া গঠনতন্ত্র তৈরি করে তাদের ইচ্ছে মত কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে।পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক নেতাকে তারা দল থেকে বরখাস্ত করে।অনেকে মান অভিমানে দল ছেড়ে চলে যান।বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাইকোর্টের রিট সেচ্ছায় উত্তোলন করেন।নির্বাচন কমিশনে নতুন কমিটি ও ভূয়া তথ্য উপাথ্য দিয়ে নিবন্ধনের আবেদন জমা দেন।

নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ে দলের সঠিক তথ্য পাওয়ায় দলটিকে নিবন্ধনের কাছাকাছি নিয়ে আসলেও অধিকতর তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি দল গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ সালে জাতীয় জনতাপার্টির জাতীয় কমিটির অফিস জনতা ভবন সরজমিন পরিদর্শন করেন।তখন তদন্তে দলের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা না পাওয়ায় এবং বার বার প্রয়াত চেয়ারম্যান এডভোকেট নুুরুল ইসলাম খানের পূত্র এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খানের খুজখবর নেন, কিন্তু তিনির উপস্থিতি না পেয়ে মুঠো ফনে কথা বলেন কমিশনের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তদন্তে অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন জাতীয় জনতা পার্টির নিবন্ধন দানে বিরত থাকে।তাছাড়া জনতা ভবনের অনেক জায়গা বেহাত,ভবনের নীচতলায় দোকান ভাড়া,একটি অন্য রাজনৈতিক দলের অফিস ভাড়া, এনার কাউন্টার,ভাড়া দেয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরু এসব ভাড়া দেয়া হয়।কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে হাজার, হাজার টাকা ভাড়া উঠলেও এর কোন হাদিস নাই।জনতা পার্টির একাউন্টে কোন টাকা জমা হয় নাই বা পার্টির কর্মকাণ্ডে কোন টাকা খরচ হয় নাই। এইসব আয়ব্যায়ের সঠিক হিসেব না থাকায় নির্বাচন কমিশন অসন্তুষ্ট হয়।পার্টির ফাইলে অনুসন্ধান করে জানা যায় এই জনতা ভবন নাকি এমএজি ওসমানী জীবিতকালীন সময়ে আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরু কে সার্বিক দায়িত্ব লিখে দিয়েছেন এজন্য তিনি ভবনের মালিক।তিনি নিজেও তা স্বীকার করেছেন।

আমার জানা মতে ১৯৭৬ সালে জাতীয় জনতা পার্টির ২ বৃটেন প্রবাসী সিলেটী তৈয়বুর রহমান ও সাইফুল্লাহ জনতা ভবন ও তৎসংলগ্ন ৩৫ শতক ভুমি জেনারেল ওসমানীর বাসস্থান ও জাতীয় জনতা পার্টির জন্য ক্রয় করেন।তাঁরা ওসমানী সাহেবের নামে রেজিস্ট্রারী করে দিতে চাইলে ওসমানী তা মেনে নেননি। তখন তৈয়বুর রহমান ও সাইফুল্লাহর নামে দলিল রেজিস্ট্রারী হয়।

ওসমানী যখন দলিলে জায়গার মালিকই নন, তাহলে তিনি কিভাবে অন্যজনকে আমমোক্তার দিলেন,তা আমাদের বুূদগন্য নয়।এসব কারসাজি ছাড়া কিছু নয়।

এডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম চেয়ারম্যান হওয়ার পর দেখা যায় বহিস্কৃত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এডভোকেট হুমায়ুন কবির আকন ঢাকা শহরে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় বা হল ভাড়া করে নিজেকে জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করে সভা সমাবেশ করছেন।তারা জাতীয় জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরু সহ কয়েকজনকে বহিষ্কার করছেন।তারাও জনতা ভবনের অফিসের ঠিকানা ব্যাবহার করছেন।

তাছাড়া তারা আদালতে মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিরু সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। এদিকে আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী, তিনির মেয়ের বান্ধবী এক মহিলা সাংবাদিককে পার্টির মধ্যের একটি হল কেয়ারটেকার হিসেবে দিয়ে দিয়েছেন। এই মহিলার সাথে গত অক্টোবর মাসে ও নভেম্বর মাসে নিচের ভাড়াটিয়েদের ঝগড়া হয়ে গত ৩ নভেম্বর নিচের ভাড়াটিয়েরা মহিলা ও পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ভূঁইয়াকে জোরপূর্বক ভরন থেকে বের করে গেইটে তালা মেরে দেয়।অভিযোগ পেয়ে ঢাকা ওয়ারী থানাপুলিশ এসে ঘটনা পর্যালোচনা করে তালা ভেংঙে আবার মহিলাকে উপরের দখল সমজে দেয়।

এদিকে আবারও বড়ধরনের হামলা ও প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকায় পার্টির কার্যালয় কাজকর্ম বন্ধ থাকায় জনতা পার্টির বিরাট অতিসাধারণ হচ্ছে। এই ব্যাপারে সরকারি ভাবে অডিট ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জাতীয় জনতা পার্টির ও ওসমানীর ঐতিহাসিক জনতা ভবন রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

তাই আমার প্রানের সংগঠের সকল নেতাকর্মীর কাছে প্রশ্ন এসবের দায় কার?