২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জৈন্তাপুরে ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: নেপথ্যে ফারুক সিন্ডিকেট ? তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

admin
প্রকাশিত ২৬ জুন, শুক্রবার, ২০২৬ ০২:১৪:৪২
জৈন্তাপুরে ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: নেপথ্যে ফারুক সিন্ডিকেট ? তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

জৈন্তাপুরে ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: নেপথ্যে ফারুক সিন্ডিকেট ? তদন্তের দাবিতে সরব স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ফারুক (অরফে কাউয়া ফারুক)সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে আসা বিভিন্ন চোরাচালান পণ্যের চালান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না এলেও বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় গরু, মহিষ, মোটরসাইকেল, কসমেটিকস, চিনি, জিরা, কম্বলসহ নানা ধরনের পণ্য দেশে প্রবেশ করে। এসব পণ্যের চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে একটি চক্র সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক সূত্রের দাবি, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। এ কারণে অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দিলে পণ্য পরিবহনে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয় কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ এলাকায় প্রচলিত থাকলেও কার্যকর তদন্তের অভাবে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে অর্থ আদায় করে থাকে, তবে তা শুধু অপরাধ নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে মাঝেমধ্যেই নানা অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দৃশ্যমান হয় না। ফলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালেই থেকে যায় এবং অভিযোগের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ফারুক (অরফে কাউয়া ফারুক)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংবাদকর্মীকে বলেন যে আমি আগামীকাল আপনার সাথে দেখা করবো দয়া করে আমার বিরুদ্ধে আর কোন নিউজ করবেন না, আমি এই লাইনটি অনেক কষ্ট করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লাইনটা এনেছি, আমাকে এই লাইনটি সুন্দরভাবে কয়েকটা দিন চালাতে দাও আমি খাইলে আপনারাও খাইবা এই ছিলো ফারুকের বক্তব্য ।

সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। এতে জনমনে বিরাজমান বিভ্রান্তি দূর হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।