১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জৈন্তাপুরে নদী আটকে মাছ শিকারের মহোৎসব: বিপন্ন মাছের অভয়ারণ্য, নিরব প্রশাসন

admin
প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, ২০২৬ ২৩:০৭:৪৭
জৈন্তাপুরে নদী আটকে মাছ শিকারের মহোৎসব: বিপন্ন মাছের অভয়ারণ্য, নিরব প্রশাসন

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের মেদল হাওরের কুশি নদী, খেফা নদী ও পাবি জুড়ি নদীর উৎস মুখে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে একদল প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। আইন অমান্য করে এক্সেভেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর গতিপথ বন্ধ করে দেওয়ায় একদিকে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মৎস্যজীবীরা।

সরেজমিন চিত্র

সরেজমিনে দেখা যায়, হরিপুর সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে তিনটি নদীর মিলনস্থলে মাটি ভরাট করে স্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এই বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা এই উন্মুক্ত জলমহাল থেকে বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ আহরণ করছে। এর ফলে ভাটি অঞ্চল শুকিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং বন্যপ্রাণীরাও তীব্র পানির সংকটে পড়েছে।

বিপন্ন মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ

স্থানীয়দের মতে, নদীতে এভাবে বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরায় দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। গত বছরও একই কায়দায় মাছ শিকার করা হয়েছিল, যা পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অপসারণ করা হয়। কিন্তু এ বছর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তারা রহস্যজনকভাবে ‘নিরব ভূমিকা’ পালন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কৃষক ও জেলেদের ক্ষোভ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নদীতে বাঁধ দেওয়ায় কৃষকদের চলাচলের একমাত্র নৌ-পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া নদী তীরের সাধারণ মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মানুষকে নদীতে নামতে বাধা দিচ্ছে প্রভাবশালী চক্রটি। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র জেলেরা। তাদের আক্ষেপ, “গরিব মানুষ মরলে কার কী আসে যায়!”

আইনি বিধান

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রবহমান কোনো জলাশয়ে বাঁধ, স্থায়ী অবকাঠামো বা অন্য কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। পানির প্রবাহ ও মাছের চলাচল বাধাগ্রস্ত করলে জেল ও জরিমানার বিধান থাকলেও জৈন্তাপুরে এর কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

প্রশাসনের বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে এই অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।