ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ও মিনি স্টেডিয়াম ঘিরেও নানা অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও সরকারি স্থাপনা দখলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয় যুবদলের নেতা পরিচয়ে ‘ব্রয়লার সেলিম’ নামের এক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যুবদল নেতা পরিচয়দানকারী ব্রয়লার সেলিম নিজে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাদকাসক্ত এবং প্রতিদিন দিন-রাত মিলিয়ে একাধিক বোতল ফেনসিডিল সেবন করেন। শুধু সেবনই নয়, জৈন্তাপুরের চিহ্নিত নারী ফেনসিডিল ব্যবসায়ী জেবুর অন্যতম ‘শেল্টারদাতা’ বা পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেলিম ও জেবুর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করলেই এই সিন্ডিকেটের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রয়লার সেলিমের সরাসরি নেতৃত্বে ও ছত্রছায়ায় জৈন্তাপুরের জালাল বস্তিতে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। সেলিম অধিকাংশ সময় এই বস্তিতেই অবস্থান করেন এবং চিহ্নিত মাদক কারবারি আলী গংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করেন। সচেতন নাগরিকদের দাবি, স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে নানাভাবে ‘ম্যানেজ’ করে সেলিম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করে আসছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এদিকে জৈন্তাপুর মিনি স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করেও উঠেছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। জানা গেছে, আমির নামের এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা চৌকিদার না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় তলায় অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ব্রয়লার সেলিমের নির্দেশেই আমির স্টেডিয়াম এলাকায় অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছেন। সেলিমের রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে স্টেডিয়ামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ছাড়া একজন বহিরাগত কীভাবে দীর্ঘদিন স্টেডিয়ামে আবাসিক সুবিধা ভোগ করছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নজর পড়েছে স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপরও। ঐতিহাসিক জৈন্তা রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনা অবৈধভাবে ব্যবহার এবং এর চারপাশের পরিবেশ ধ্বংসের পেছনেও এই চক্রটির সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রত্নসম্পদ ও পরিবেশ এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব অপকর্ম চললেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এলাকাবাসীর জোর দাবি, জৈন্তাপুরে মাদক, চোরাচালান ও সরকারি স্থাপনা দখলকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কার্যকর টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামে আমিরের অবস্থান এবং সেলিমের মাদকের নেটওয়ার্ক নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত ব্রয়লার সেলিম ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।