২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের ‘শক্তিশালী আলোচনা’র দাবি বনাম তেহরানের অস্বীকার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে ঘনীভূত অনিশ্চয়তা

admin
প্রকাশিত ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৯:২০:১৫
ট্রাম্পের ‘শক্তিশালী আলোচনা’র দাবি বনাম তেহরানের অস্বীকার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে ঘনীভূত অনিশ্চয়তা

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৪ মার্চ, ২০২৬

Manual2 Ad Code

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘খুব শক্তিশালী এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান ও ডিজিটাল নিউজ সাইট অ্যাক্সিওস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কথিত আলোচনার নেপথ্যে থাকা জটিলতা ও অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের দাবি ও তেহরানের কঠোর অবস্থান

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা তিনি ৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন, কারণ তেহরানের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অবৈধ সামরিক হামলা’র পর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

Manual4 Ad Code

তেহরানের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি মূলত তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল মাত্র।

Manual6 Ad Code

নেপথ্য যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা

গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও কিছু ‘ব্যাকচ্যানেল’ বা পরোক্ষ যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে:

Manual5 Ad Code

  • সম্ভাব্য বৈঠক: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের গুঞ্জন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পক্ষ উইটকফ বা কুশনারের চেয়ে ভ্যান্সকে তুলনামূলক ‘গ্রহণযোগ্য’ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

  • আঞ্চলিক মধ্যস্থতা: পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং ওমান সক্রিয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাজ করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় একটি আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।

ডেলসি রদ্রিগেজ মডেল ও ইরানের বাস্তবতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানে এমন একজন নেতা খুঁজছেন যিনি আলোচনার ক্ষেত্রে নমনীয় হবেন—ঠিক যেমন ভেনেজুয়েলার ডেলসি রদ্রিগেজ। সম্প্রতি মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা করে তেল সরবরাহ সচল রেখেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের জটিল রাজনৈতিক কাঠামো এবং বিশেষ করে রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) প্রভাবের কারণে সেখানে এমন কোনো একক ‘নমনীয়’ নেতা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

অনিশ্চয়তার মুখে ভবিষ্যৎ

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনে মার্কিন-সমর্থিত ইসরায়েলি হামলায় আগের আলোচনার প্রচেষ্টাগুলো ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে তেহরান এখন চরম অবিশ্বাসের পথে হাঁটছে। বর্তমানে দেশটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কঠোরপন্থিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা যে কোনো যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে অনেক বড় ‘মূল্য’ বা ছাড় দাবি করছে। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে।