৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঘুমধুম সীমান্তে আরসা-আরএসও-আরাকান আর্মি সংঘাত: মর্টার শেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক

admin
প্রকাশিত ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৯:১৫:০৪
ঘুমধুম সীমান্তে আরসা-আরএসও-আরাকান আর্মি সংঘাত: মর্টার শেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | বান্দরবান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে (নো ম্যান্স ল্যান্ড) নতুন করে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে তুইঙ্গাঝিরি বিওপি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ

সীমান্তে বাঁশ কাটতে যাওয়া স্থানীয় কাঠুরিয়া সৈয়দ কাশেম ও রোহিঙ্গা নাগরিক করিম বক্স জানান, তারা ৩৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে কাজ করছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। পরে অন্তত দুটি মর্টার শেল বিস্ফোরণ এবং ২০-২৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে তারা দ্রুত প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের শঙ্কা

স্থানীয়দের দাবি, গত দুদিন ধরে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA), আরসা (ARSA) এবং আরএসও (RSO)-র মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই রেশ ধরেই আজকের এই সংঘর্ষ।

গ্রামবাসীরা জানান:

  • বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে বর্তমানে আধুনিক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে।

  • আরসা ও আরএসও-র কাছে একে-৪৭ সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থাকলেও আরাকান আর্মির হাতে রয়েছে মর্টার শেল

  • এর আগেও এসব গোষ্ঠীর ছোঁড়া মর্টার শেলে বাংলাদেশের তুমব্রু কোনারপাড়া ও পশ্চিমপাড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও বিজিবির অবস্থান

সীমান্তে উত্তেজনার খবর পেয়ে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দলকে ওই এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ৩৪ বিজিবি কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে সীমান্তে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।