তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তাঁদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়
তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তাঁদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়
admin
প্রকাশিত ১৫ আগস্ট, শনিবার, ২০২৬ ০৯:৫৯:৩২
তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাঁদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়
সিলেট নগরের রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাবেক চেম্বার পরিচালক আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানার দেওয়া লিখিত অভিযোগে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় দেওয়া অভিযোগে সেলিনা সুলতানা দাবি করেন, সম্পত্তি নিয়ে তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে সেলিনা বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁদের পৈতৃক বাসায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। এ সময় তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাঁদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আব্দুস সাত্তার ও মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তৌহিদুল ইসলামকে মারধর এবং আব্দুস সাত্তারকে আঘাত করার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে আদালতে মামলা করা হয় বলে দাবি সেলিনার।
সেলিনার অভিযোগ, এসব মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তাঁর বাবাকে বিভিন্ন সময় মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর বাবার নিয়োজিত আইনজীবীকেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকার মিতালী-১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল পুলিশ।
লিখিত অভিযোগে সেলিনা আরও দাবি করেন, তাঁর বাবার সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও বিভিন্ন দলিল হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে ‘১৮৫২২/০৬ নম্বর সাফকবালা দলিল’সহ ভূমিসংক্রান্ত কাগজপত্রের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগকারীর দাবি, সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য কথিত হুমকি এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তিনজনের হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে লিখিত অভিযোগে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্য। এগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়। তাঁর বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।