দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন থেকে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির প্রশ্ন—রাষ্ট্রসংস্কার কি তবে শুধুই সরকারের ‘ফাঁকা বুলি’?
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতের এক লিখিত বিবৃতিতে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এই প্রতিক্রিয়া জানান।
টিআইবি বলছে, দুদকের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিতে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ অপরিহার্য ছিল। সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে জুলাই সনদে এই প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। সংস্থার দাবি, এটি সরকারের অভ্যন্তরে সংস্কারবিরোধী এক প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র, যারা রাষ্ট্রসংস্কারের অভীষ্টকে জিম্মি করে রেখেছে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই দুদক জনআস্থার সংকটে ভুগছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাই ছয় মাস পর পর্যালোচনা, গণশুনানি ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে সত্যিকারের স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
ড. জামান অভিযোগ করেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী অন্তত সাতজন উপদেষ্টা মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবে একমত ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সরকার কি দলগুলোকে সনদ লঙ্ঘনে উৎসাহিত করছে? তাহলে এত রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের মূল্য কোথায়?
টিআইবির বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, খসড়া অধ্যাদেশে থাকা কিছু ইতিবাচক সংস্কারের জন্য সংস্থাটি সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত অধ্যাদেশে আরও বেশ কিছু ঐকমত্য ভিত্তিক কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের ভেতরের স্বার্থান্বেষী মহলের দুর্নীতিসহায়ক অবস্থান ছাড়া কিছুই নয়।