৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে জবিতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মানববন্ধন

admin
প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ১৯:২৯:২৭
নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে জবিতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ঢাকা ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের ‘নিকাব’ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’ ভাস্কর্য চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা এই প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদের প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি একটি বক্তব্যে সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মন্তব্য করেন যে, ‘নিকাব মুসলমানদের পোশাক নয়’। তিনি দাবি করেন, অতীতে ইহুদি নারীরা বিশেষ কিছু নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত থাকার সময় নিকাব ব্যবহার করত। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ছাত্রী সংস্থার বক্তব্য

মানববন্ধনে জবি শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী ও জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন বলেন, “হিজাব মুসলিমদের পোশাক—এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু নিকাব মুসলিমদের ড্রেস নয়, এমন মন্তব্য বিভ্রান্তিকর। কোরআন ও হাদিসের আলোকে একজন মুসলিম নারী চাইলে পরিপূর্ণ পর্দার অংশ হিসেবে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতে পারেন। মানুষের সৌন্দর্য মূলত তার চেহারাতেই প্রকাশ পায়, তাই তা ঢেকে রাখা ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে বহু নারী ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নিকাব ব্যবহার করেন। এটি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পর্দা পালনে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।”

সম্প্রীতির আহ্বান

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ ধর্মীয় সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামি সংস্কৃতি ও পর্দার বিধান নিয়ে যেকোনো ধরনের কটূক্তি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বন্ধ করার জন্য তাঁরা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রী ও সাধারণ সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।