২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নেপালে ‘জেন-জি’ অভ্যুত্থানের ধাক্কা: নির্বাচন থেকে সরলেন দেউবা ও খানাল

admin
প্রকাশিত ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২৩:২৭:০৪
নেপালে ‘জেন-জি’ অভ্যুত্থানের ধাক্কা: নির্বাচন থেকে সরলেন দেউবা ও খানাল

Manual3 Ad Code

কাঠমান্ডু ব্যুরো | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Manual8 Ad Code

কাঠমান্ডু: নেপালের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। গত বছরের রক্তক্ষয়ী ‘জেন-জি’ গণ-অভ্যুত্থানের প্রলেপ হিসেবে দেশটির দুই প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং ঝলানাথ খানাল আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও স্থানীয় দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

Manual2 Ad Code

অজেয় দুর্গে ফাটল

পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবা ১৯৯১ সাল থেকে টানা ৪০ বছর ভারতের উত্তরাখন্ড সীমান্তবর্তী ‘দাদেলধুরা’ আসনটি নিজের দখলে রেখেছিলেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দলীয় পুনর্গঠন নিয়ে তীব্র বিতর্ক এবং দলের ভেতর থেকে আসা চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অন্যদিকে, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (ইউএমএল) জ্যেষ্ঠ নেতা ঝলানাথ খানালও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং সীমান্তবর্তী ‘ইলাম’ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জনরোষ ও তরুণ প্রজন্মের দাবির মুখে তিনি একে “তরুণদের জায়গা করে দেওয়া” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Manual4 Ad Code

গণ-অভ্যুত্থানের সেই ভয়াবহ স্মৃতি

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে নেপালের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এক অভাবনীয় ছাত্র-জনতার আন্দোলন। ১৯ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ মানুষ।

  • ব্যক্তিগত আক্রমণ: আন্দোলনের সময় শের বাহাদুর দেউবা ও তাঁর স্ত্রী আরজু রানা দেউবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থার ভিডিও সে সময় ইন্টারনেট কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

  • হামলা ও অগ্নিসংযোগ: উত্তেজিত জনতা দেউবার বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করে এবং ইলামে ঝলানাথ খানালের বাড়িতেও হামলা চালায়।

  • পলায়ন: পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, তৎকালীন সরকারের অনেক মন্ত্রীকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

জেন-জি প্রভাব ও নতুন সমীকরণ

নব্বইয়ের দশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর এই প্রথম নেপালের এই দুই শীর্ষ নেতা নির্বাচনী ময়দানের বাইরে থাকছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থান নেপালি তরুণদের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেছে, তার ফলেই প্রবীণ নেতারা জনরোষের ভয়ে বা কৌশলী অবস্থানে থেকে নির্বাচন থেকে দূরে সরছেন।

আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনটি নেপালের জন্য এক নতুন পরীক্ষা, যেখানে প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব উঠে আসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

Manual4 Ad Code