৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি ও স্পিডবোট জব্দের পর উঠেছে ‘মাসোয়ারা চুক্তির’ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সীমান্তপথে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোয়ারা’ নিয়ে তাদের মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত এই মাসোয়ারা চুক্তির কারণে রাতের আঁধারে নৌপথে অবাধে পার হয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন চোরাচালানের পণ্য। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার পণ্য নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে সম্প্রতি ফাঁড়ির একটি টহল দল আইসিকে না জানিয়ে অভিযান চালিয়ে বড় একটি চালান আটক করার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ২৬ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জামালগঞ্জ থানাধীন সুরমা নদীতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে নৌ-পুলিশের একটি টহল দল। এ সময় সুরমা নদীর পূর্ব পাড় এলাকায় একটি স্পিডবোট ধাওয়া করে ৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত আনুমানিক ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্পিডবোটও জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জয়নাল মিয়া ও মোজাহিদ মিয়া নামের দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর আওতায় জামালগঞ্জ থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযানের পরই প্রশ্ন
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নৌপথে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট মহলের সঙ্গে লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সজল কুমার কানুর কথিত ‘মাসোয়ারা চুক্তি’ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কথিত সমঝোতার কারণে চোরাকারবারিরা রাতের বেলায় নৌপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পারাপার করে আসছিল। নিয়মিত অভিযানের পরিবর্তে তাদের একটি অংশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, ২৬ আগস্টের অভিযানটি আইসিকে অবহিত না করেই পরিচালিত হওয়ায় কথিত চোরাচালান চক্রের একটি বড় চালান আটক হয়। এ ঘটনায় ফাঁড়ির অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সীমান্ত ও নৌপথে চোরাচালান ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি চোরাকারবারিদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
তারা অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত, কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
তবে আইসি সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে নৌপথে চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।