১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিম রায়গড়-ভটরপাড়া থেকে শিলঘাট-টিকরপাড়া পর্যন্ত এক মাইল, ধারাবহর হাসপাতাল বের হওয়ার রাস্তা পাকাকরণের দাবি

admin
প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ২২:৪০:০৯
পশ্চিম রায়গড়-ভটরপাড়া থেকে শিলঘাট-টিকরপাড়া পর্যন্ত এক মাইল, ধারাবহর হাসপাতাল বের হওয়ার রাস্তা পাকাকরণের দাবি

পশ্চিম রায়গড়-ভটরপাড়া থেকে শিলঘাট-টিকরপাড়া পর্যন্ত এক মাইল, ধারাবহর হাসপাতাল বের হওয়ার রাস্তা পাকাকরণের দাবি

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়গড়-ভটরপাড়া থেকে শিলঘাট-টিকরপাড়া পর্যন্ত এক মাইল, ধারাবহর হাসপাতাল বের হওয়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত, কাঁচা ও সংকীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পাকাকরণ না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন পশ্চিম রায়গড়, ভটরপাড়া, শিলঘাট, টিকরপাড়া ও আশপাশের এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটি কাঁচা ও সংকীর্ণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ কর্দমাক্ত হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও কাদার কারণে পথচারীদের হেঁটে চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচলের সময়ও সৃষ্টি হয় নানা বিড়ম্বনা। মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সড়কটি কাদামুক্ত থাকলেও বিভিন্ন অংশ উঁচু-নিচু ও অসমতল থাকায় দুর্ভোগ পুরোপুরি কমে না। সামান্য অসতর্কতায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে ধারাবহর হাসপাতালের দিকে নেওয়ার সময় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্বজনদের উদ্বেগের মধ্যে পড়তে হয়। অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে যানবাহনে চলাচলের সময় ঝাঁকুনির কারণে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে তাদের পোশাক নষ্ট হওয়া, পিছলে পড়ে যাওয়া কিংবা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে না পারার মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সড়কটি শুধু জনসাধারণের চলাচলেই নয়, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কাঁচা ও সংকীর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে পাকাকরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই প্রতিবছর একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সাময়িকভাবে মাটি বা ইটের খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হলেও এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

এলাকাবাসী মনে করেন, সড়কটি পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ও পাকাকরণ করা হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসান হবে। একই সঙ্গে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাই জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পশ্চিম রায়গড়-ভটরপাড়া থেকে শিলঘাট-টিকরপাড়া পর্যন্ত এক মাইল, ধারাবহর হাসপাতাল বের হওয়ার রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির বাস্তব অবস্থা যাচাই করে পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এতে কয়েকটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় আসবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন।